অধিবেশন বসছে কাল, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন বসবে। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন চলবে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। এদিকে জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের কার্যসূচি, সময় বরাদ্দ এবং স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সংসদের বৈঠক শুরু হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর অধিবেশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, চতুর্থ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য এখন পর্যন্ত একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর থেকে চতুর্থ অধিবেশন শুরুর আগপর্যন্ত তিনটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আগামীকাল অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে।
অধ্যাদেশ তিনটি হলো—পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রশ্নের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫১টি। এ ছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত সবাই তাঁর এ প্রস্তাব স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।
এ সময় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সংসদ সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আগামীকাল বিকেলে নতুন সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবনে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। অন্য সময়ে চাহিদা আরও কম থাকবে। ফলে প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণাগারের সুবিধা রেখেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, ইতিমধ্যে তিনটি অধ্যাদেশ ও একটি বিল সংসদে এসেছে। আরও দুটি বা একটি বিল আসতে পারে। অধ্যাদেশ ও বিলগুলো সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, ফলে এগুলো নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তাঁরা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের অধিবেশনে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় তুলতে পারে বিরোধী দল।
