জানা গেলো আওয়ামী লীগ নেতাদের সর্বশেষ অবস্থান!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:২২ পিএম
আমির হোসেন আমু, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলালউদ্দিন, শেখ ফজলে নূর তাপস ও মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন। যদিও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, তবে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী অনেক সদস্যই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ৫ আগস্ট ভারতে চলে যান। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং একাধিকবার ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দিয়েছেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও ভারতের অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও নাইম ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ। শেখ সেলিম পরিবারসহ আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের ৫ ছেলে রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তাদের মধ্যে শেখ হেলাল উদ্দিন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল দুজনই সংসদ সদস্য ছিলেন। শেখ হেলাল ও তার ছেলে শেখ তন্ময় ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। জুয়েল দেশে আছেন বলে জানা যায়, তবে তার ভাই শেখ সোহেল, শেখ রুবেল ও শেখ বেলালের কোনো খোঁজ মেলেনি।
শেখ ফজলুল হক মণির দুই ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপসও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ ও ঢাকার সাবেক মেয়র তাপস দুইজনই ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে আছেন। তাপস সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহও আত্মগোপনে আছেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ভারতে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ও তার ভাই নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। দুইজনই আত্মগোপনে আছেন। তাদের ফুফা ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানও ৫ আগস্টের পরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেখ কবির হোসেন, শেখ নাদির হোসেন ও শেখ হাফিজুর রহমানের মতো পরিবারের অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যরাও এখনো আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, যিনি বঙ্গবন্ধুর চাচাতো বোন ফিরোজা বেগমের স্বামী, ৫ আগস্টের পরে ভারতে চলে গেছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
নারায়নগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। ৫ আগস্টের পরে তিনিও আত্মগোপনে আছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে শামীম ওসমান এখন ভারতের দিল্লীতে অবস্থান করছেন।
