×

রাজনীতি

‘জীবন বাঁচাতে ৩০-৪০ মিনিট সময় পেয়েছিলাম’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

‘জীবন বাঁচাতে ৩০-৪০ মিনিট সময় পেয়েছিলাম’

ছবি : ফাইল ফটো

জীবন বাঁচাতে আধ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। এ কারণে পদত্যাগ করার মতো সময় বা সুযোগ কোনোটিই পাননি তিনি। দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন কথা উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আদৌ জানতামই না যে দেশের বাইরে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে পদত্যাগ করার সময় দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ারই নিয়ম। কিন্তু সেই সুযোগ আমি পাইনি... গণভবন আক্রমণ করতে এলে আমার হাতে মোটে ৩০-৪০ মিনিট সময় ছিল।’

তিন পাতার পদত্যাগপত্র প্রসঙ্গ

ঢাকার একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও এক বিশিষ্ট সাংবাদিক সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা গণভবন ঘেরাও করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবর তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লেখেন এবং তা টাইপ করার জন্য বিটিভির এক কর্মীকে দেন। ওই সাংবাদিকের দাবি, দ্রুত দেশ ছাড়তে হওয়ায় চিঠিটি স্বাক্ষর না করেই নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে নিয়ে যান হাসিনা।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি সত্যিই রাষ্ট্রপতির হাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন, বা তিন পাতার এমন কোনো খসড়া লিখেছিলেন যা পরে স্বাক্ষর করে জমা দেননি?’

জবাবে মুজিবকন্যা বলেন, ‘আমাকে দেশ ছেড়ে চলে আসতে হবে- এটা কোনোদিন ভাবতেই পারিনি। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। তাদের লাশ বানিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা আমার কখনোই ছিল না।’

‘৫ আগস্ট কোনো স্বাভাবিক দিন ছিল না’

হাসিনা বলেন, ‘৫ আগস্ট কোনো স্বাভাবিক দিন ছিল না। সেদিন বাংলাদেশকে ভয়াবহ এক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। উন্মত্ত জনতা গণভবনের দিকে এগিয়ে আসছিল, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। পুলিশ, প্রশাসন ও গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বত্র চাপ, বিভ্রান্তি আর পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।’

তিনি দাবি করেন, তাঁকে ও তাঁর বোন রেহানাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আন্দোলনকারীরা গণভবনে হামলা চালায়। ‘আমার নিরাপত্তা নিয়ে সবাই দারুণ উদ্বিগ্ন ছিল। আন্দোলনকারীরা রেহানা আর আমাকে হত্যার জন্যই গণভবন আক্রমণ করেছিল। তাদের অনেকের মুখেই শোনা গেছে, ‘লাশ ফেললে সরকার পড়ে যাবে’। ভুয়া আইডি কার্ড বানিয়ে গণভবনে লোক ঢোকানো হয়েছিল- এ কথা আন্দোলনের সমন্বয়করাও স্বীকার করেছে,’ বলেন তিনি। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই হাসিনা স্পষ্ট করেন, মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের সেই সংকটময় মুহূর্তে বসে পদত্যাগপত্র লেখার সময় ছিল না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে

জুলাই-আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার শাখার প্রতিবেদন সংশোধনের জন্য তিনি যে আইনজীবীর চিঠি পাঠিয়েছেন, এবং বাংলাদেশে ‘শাসন পরিবর্তনের’ পরিকল্পনায় জাতিসংঘের এই সংস্থাও যুক্ত কি না- সে বিষয়ে তাঁর মতামত কী?

উত্তরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতেই আইসিটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনিভাবে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার চালিয়েছে। আমাকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা কোনো বিচার নয়, বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। কোটা সংস্কারের দাবির আড়ালে এটি ছিল সরকার উৎখাতের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যেখানে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত ছিল। অবৈধ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস নিজেই একে ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইনড’ (সুচারুভাবে নকশাকৃত) বলে স্বীকার করেছেন। এই চক্রান্ত সফল করতেই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।’

হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররাই গণমাধ্যমে বলেছে, আন্দোলন সফল করতে তারা পুলিশ হত্যা করেছে, মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে। আন্দোলন ব্যর্থ হলে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনাও ছিল বলে তারা স্বীকার করেছে।’

‘জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিরপেক্ষ নয়’

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার-কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদন নিয়ে হাসিনা বলেন, ‘ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের আমন্ত্রণেই তারা এ তদন্ত করেছে। যারা ষড়যন্ত্র করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করল, তাদের ডাকা তদন্ত কীভাবে স্বাধীন-নিরপেক্ষ হবে? প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টে ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলা হলেও এর কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। স্বয়ং অবৈধ সরকারের গেজেটেই নিহতের সংখ্যা ৮৩৪, এবং সেখানেও সংখ্যা বাড়াতে মিথ্যা নাম যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওএইচসিএইচআর কমিশনার ভলকার টুর্ক ২০২৫ সালের মার্চে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আন্দোলন দমনে কঠোর হলে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এটি স্পষ্টত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং জাতিসংঘের মূলনীতির পরিপন্থী।’

শেখ হাসিনার মন্তব্য, ‘এটা পরিষ্কার যে, জুলাই-আগস্টের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলনের সময় এবং প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জুনেই ইনু ও হানিফের মামলার রায়

চিফ প্রসিকিউটর জুনেই ইনু ও হানিফের মামলার রায়

আপনারা গুলি করলে আমরা কি বসে থাকবো

বিএসএফকে বিজিবি আপনারা গুলি করলে আমরা কি বসে থাকবো

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এখন গ্রহণযোগ্য নাম

সেনাপ্রধান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এখন গ্রহণযোগ্য নাম

ইশতেহার বাস্তবায়নে তিন ধাপের মেগা পরিকল্পনা করেছে সরকার

ইশতেহার বাস্তবায়নে তিন ধাপের মেগা পরিকল্পনা করেছে সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App