×

রাজনীতি

প্রতি মুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চের ওপরই আছি : জামায়াত আমির

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

প্রতি মুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চের ওপরই আছি : জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আপনাদেরকেও (শহীদ ও আহত পরিবার) দেখানো হচ্ছে। আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। কেন ভয় করব? আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা মনে করি, প্রতি মুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চের ওপরই আছি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আইডিবির কাউন্সিল হলে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ চেয়েছিল একটি আমূল পরিবর্তন আসুক। কিন্তু এখন আবার দেশকে সেই পুরোনো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাবেক সরকারের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থা ছিলো খুবই খারাপ। গেস্টরুম, গণরুম করে সেখানে টর্চার সেল গঠন করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েদের হল পর্যন্ত সেই অবস্থা থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের নাজাত দিলেন। এখন মনে হচ্ছে আবার আমরা সেই একই অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছি।

আরো পড়ুন: শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কী করবে? জামায়াতে ইসলামী কি সেই অন্ধকার গলিপথে হাঁটবে? এমন কথা উল্লেখ করে জামায়াতে আমির জানান, ইনশাআল্লাহ, না। আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি, এই জুলাই বিপ্লব হওয়ার পর থেকে যতগুলো কথা বলেছি, আল্লাহ আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখলে তার সবটুকু আমরা পালন করব। 

আমাদের হাতে কিছু নেই এমনটা বলে তিনি বলনে, আমরা সরকারে যাইনি, কোনো আফসোস নেই। কিন্তু আমরা সংসদে তো আছি। সংসদে দেশবাসীর হয়ে, শহীদদের কণ্ঠ হয়ে আমরা চিৎকার করতে থাকব ইনশাআল্লাহ।

জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমাদেরকে আপসের অনেক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনেক লোভ-টোপ বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত এগুলো ঘৃণা করে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা বলেছি, গণভোট আপনারা চাইলেন, আমরা চাইলাম। এখন আপনারা মানেন না। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আমরা এখান থেকে সরতে পারব না। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করতে পারব না, করবও না। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের ওয়াদার ওপর আমরা যেন টিকে থাকতে পারি। 

গণভোটের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আশাবাদী, গণভোটের গণরায় এই বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে।

বিচারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমরা প্রতিশোধ চাই না। কিন্তু বিচারটা কি পাব না? শুধু কারো বাবার বিচার, নিজের বিচার, মায়ের বিচার, বোনের বিচার, ভাইয়ের বিচার হবে, আর এই দেশের নিরীহ জনগণ যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার হবে না? সেই বিচারও ইনশাআল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। কোনো কোনো বিচার এই দেশে ৫০ বছর পরে হয়েছে, কোনটা ২১ বছর পরে হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি, এই বিচারও ইনশাআল্লাহ হবে। যেদিন, যে মাস, যে বছরই হোক, হবে ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচারের দাবি আমরা ছেড়ে দেব না। আমরা ছেড়ে দেওয়ার কেউ নই। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। এই ওয়াদা বাস্তবায়ন করব। আমরা সরকারের কাছে খোলামনে আহ্বান জানাব, ভুল মানুষের হয়, দলের হয়, সরকারের হয়, বিরোধী দলের হয়, সবারই হতে পারে। আমরা মনে করি, সুস্পষ্টভাবে আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন। জাতির সঙ্গে বিশ্বাস রক্ষা করেননি, বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আপনারা ফিরে আসেন, এই দাবি মেনে নেন। ডান-বাম করা বাদ দিয়ে সোজা চলেন। জাতি কঠিন সংকটে। আপনাদের পাশে থেকে এই দেশকে গড়বে ইনশাআল্লাহ। কারণ আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। 

আরো পড়ুন: শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের বিষয়ে যা জানালেন আইনমন্ত্রী

জামায়াত আমির  বলেন, সমস্ত শক্তি ও কুদরত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। অহংকার করে কেউ যেন পথে না পড়ে। আল্লাহ বিশাল বাহিনীর ওপর ক্ষুদ্র বাহিনীকে বিজয় দিয়েছেন, ইতিহাসে বারবার দিয়েছেন। সেই বিজয় আমরা দেখেছি। আমাদের সন্তানরা হাতে কোনো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামেনি। ঈমানের অস্ত্র বুকে ধারণ করে, আল্লাহর ওপর ভরসা করে, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা খালি হাতে মোকাবিলা করেছে। সমস্ত অস্ত্র, গুলি, বারুদ সেদিন ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। এটি বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই দেশের মানুষকে, যুবসমাজকে ভয় দেখাবেন না। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ হচ্ছে। আমাদের ওপরও আক্রমণ হচ্ছে। আমাদের দোষ একটাই, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছি।

তিনি বলেন, আক্রমণ করেন, অসুবিধা নেই। করতে করতে কে কোথায় গিয়ে পালায় আর ডুবে, আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। কিন্তু জাতির অধিকারের জন্য আমরা যা বলার, বলে যাব। আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, বীরদের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হলে এই জাতি গোলামের জাতিতে পরিণত হবে। আমরা গোলাম হয়ে একদিনও বাঁচতে চাই না। গোলাম হয়ে এক বছর, এক যুগও বাঁচতে চাই না। বরং আমরা বীর হয়ে এক সেকেন্ড বাঁচতে চাই।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা পরিবার ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ভবিষ্যতে গুরুত্ব হারাবে হরমুজ প্রণালি: নেতানিয়াহু

ভবিষ্যতে গুরুত্ব হারাবে হরমুজ প্রণালি: নেতানিয়াহু

পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগ

পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটের অভিযোগ

সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও ভোগ-দখলে থাকবেন বাবা-মা

আইনমন্ত্রী সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও ভোগ-দখলে থাকবেন বাবা-মা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App