বি. চৌধুরীর সঙ্গে কেন বনিবনা হয়নি, জানালেন অলি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে পাশাপাশি পথ চলেছেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি হয়ে পরে দলটির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় বি. চৌধুরীর। অন্যদিকে অভিমান-ক্ষোভে বিএনপি ছাড়েন অলি আহমদও। পরবর্তী সময়ে দুজন মিলে গড়ে তোলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। তবে সেই রাজনৈতিক জোটও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
কেন বি. চৌধুরীর সঙ্গে তার বনিবনা হয়নি এবং এলডিপিতে কীভাবে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল- সেসব বিষয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত কথা বলেছেন অলি আহমদ।
সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি ছাড়ার পেছনে যে কারণ
অলি আহমদ বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণেই তারা পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, শেখ রাজ্জাক ও তিনি- তিনজন মিলে বৈঠক করে বিএনপির বাইরে নতুন দল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই বি. চৌধুরী ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ গঠন করেন।
বিএনপির সঙ্গে দূরত্বের কারণ ব্যাখ্যা করে অলি আহমদ বলেন, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে চেয়েছিলেন। যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, দলের ভেতরে চাঁদাবাজদের বাদ দেওয়া এবং এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করার দাবি ছিল তাদের। কিন্তু এসব বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ না হওয়ায় পৃথক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
রেললাইন ধরে পালানোর পর সাক্ষাৎ
অলি আহমদ জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়ার মুখে বি. চৌধুরী আহত হয়ে রেললাইন ধরে পালিয়ে যাওয়ার পর তার কাছে ব্রিগেডিয়ার গিয়াসকে পাঠানো হয়েছিল।
অলির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার গিয়াস তাকে জানান, বি. চৌধুরী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। পরে রাত ১২টার পর রাজ্জাক আলীকে সঙ্গে নিয়ে বি. চৌধুরীর ডিসপেনসারিতে যান তিনি।
সেখানে আগের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিলে বি. চৌধুরী নতুন রাজনৈতিক দলের নাম হিসেবে ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি’ (এলডিপি) উল্লেখ করেন বলে দাবি করেন অলি আহমদ।
তার দাবি, ওই সময় বি. চৌধুরী জানান, মেজর মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাটোয়ারীসহ তার সঙ্গে থাকা অন্যরাও এলডিপিতে যোগ দেবেন। পরবর্তী সময়ে তারা দলটিতে যোগ দেন।
শুরুতেই তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি
অলি আহমদ বলেন, এলডিপির শুরুতেই বি. চৌধুরীর সঙ্গে তাদের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, তাদের বলা হয়েছিল বি. চৌধুরীর একটি দলীয় কার্যালয় রয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, সেটি মূলত তার বাসা। পরে ওই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায় বলেও উল্লেখ করেন অলি।
তার ভাষায়, ‘প্রথমে আমাদের সঙ্গে একটা শঠতামি করা হয়েছিল।’
অলি আহমদ আরও জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বি. চৌধুরী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অন্যদের ওপর থাকবে- এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল। বি. চৌধুরীও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে দাবি তার।
মাহি বি. চৌধুরীকে ঘিরেও দূরত্ব
বি. চৌধুরী ও তার মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে তার ছেলে মাহি বি. চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেন অলি আহমদ।
তিনি বলেন, সে সময় মাহি তার বাবাকে বলেছিলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে অলি আহমদ বেশি প্রচারে আসছেন, তাই বি. চৌধুরীকেও সামনে আসতে হবে। অলি জানান, বি. চৌধুরী ও মাহির এই প্রস্তাবও তারা মেনে নিয়েছিলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচন ঘিরে বড় বিরোধ
পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার সময় বি. চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন অলি আহমদ।
তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৮টি আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও বি. চৌধুরী একটি নির্দিষ্ট আসন নিয়ে দর-কষাকষি করেছিলেন।
অলি আহমদের দাবি, ওই আসনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর এলডিপির নেতারা বি. চৌধুরীকে দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বললাম, আপনি সম্মানিত লোক। আপনাকে আমরা বেইজ্জত করতে চাই না। আপনি পৃথক হয়ে যান। আপনি আপনার কুলা মার্কায় বিকল্প ধারায় চলে যান।’
অলি আহমাদের অভিযোগ, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে তারা রাজনীতি করতে চাননি। এ কারণেই বি. চৌধুরীকে এলডিপি থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে অলি আহমাদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
