মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, উদ্বিগ্ন জেলেরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে পদ্মা-মেঘনায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও থেমে থাকবে না জেলেদের সংসারের খরচ। তাই নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কীভাবে পরিবার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পদ্মাপাড়ের জেলেরা।
জেলেদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও তাদের অনেকেরই সরকারি জেলে কার্ড নেই। আবার মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ জেলে কার্ড পেয়েছেন। ফলে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত কার্ডধারী জেলে রয়েছেন ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ভিজিএফের চাল বরাদ্দ হয়েছে ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী ইলিশ জেলে চাল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট, মিজানপুর ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া এলাকার পদ্মাপাড়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ জাল ঠিক করছেন, কেউ নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: তাপমাত্রা-বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা
বরাটের জেলে জমির হালদার বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও তার জেলে কার্ড হয়নি। তার পরিবারে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে গোপনে নদীতে নামতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
মিজানপুরের জেলে ইয়াকুব আলীর জেলে কার্ড রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে না নামার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে বড় পরিবার চালানো কঠিন।
দৌলতদিয়ার জেলে শুকচান হালদার প্রায় আট বছর ধরে মাছ ধরলেও তার জেলে কার্ড হয়নি। তিনি বলেন, ‘চালও পাই না, কোনো সহযোগিতাও পাই না। কী করব, পেট তো আছে।’
ধাওয়াপাড়ার জেলে ইদ্রিস ব্যাপারীও দীর্ঘদিন নদীতে মাছ ধরলেও জেলে কার্ড পাননি। আর প্রায় তিন যুগ ধরে মাছ ধরা সোহেল হালদার বলেন, পর্যাপ্ত সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা নদীতে নামবেন না।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলেদের কার্ড না পাওয়া এবং অমৎস্যজীবীদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জেলে কার্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন জেলেদেরও যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জেলে হিসেবে প্রমাণিত হলে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
