নিলামে গান্ধীর চিঠি-ভাবনা, বিক্রি ২০ কোটিতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজের হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির একটি বিরল সংগ্রহ নিলামে প্রায় ১২ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি। নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট জানিয়েছে, কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিক নথি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।
গান্ধীর হাতে লেখা এসব ভাবনা ও চিঠি পাঠানো হয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে। ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে লেখা এসব ভাবনা পরে ‘এ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বইয়ে সংকলিত হয়।
আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা জানা গেল
এই সংগ্রহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ব্যক্তিগত ও আবেগঘন ঘটনা। হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক ও একাকিত্বে ভুগছিলেন। শ্রবণ সমস্যার চিকিৎসায় প্রকৃতি-নির্ভর চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিজের দুঃখ ও নিঃসঙ্গতার কথা তিনি গান্ধীর সঙ্গে শেয়ার করতেন।
বন্ধুকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দিতে গান্ধী প্রতিদিন তাঁর জন্য একটি করে ভাবনা লিখতে শুরু করেন। ব্যক্তিগত সান্ত্বনার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই লেখালেখি পরবর্তীতে গান্ধীর চিন্তাধারার অন্যতম বিস্তৃত সংরক্ষিত দলিলে পরিণত হয়।
স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি জানান, গান্ধী প্রতিদিন সময় বের করে হিঙ্গোরানির জন্য নিজ হাতে একটি ভাবনা লিখতেন। এসব ভাবনার লেখক ছিলেন গান্ধী। অন্যদিকে হিঙ্গোরানি ছিলেন এর প্রাপক, সংগঠক ও প্রতিলিপিকার। পরে প্রকাশনার জন্য তিনিই এগুলো প্রস্তুত করেন।
আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহে টানা ৪ দিনের ছুটি, যেভাবে পাবেন
৬৮৮টি লেখায় গান্ধীর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও দর্শনের নানা দিক উঠে এসেছে। সত্য ও অহিংসা, ব্রহ্মচর্য ও আত্মসংযম, সম্পদের প্রতি অনাসক্তি, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা ও সেবা, শ্রম ও কর্তব্য, নীরবতা ও বিবেক, আত্মোপলব্ধি এবং ঈশ্বরের অনুসন্ধানের মতো বিষয় এসব লেখায় স্থান পেয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালে লেখা নয়টি চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যা হিঙ্গোরানির বিয়ে, পরিবারের আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা, পারিবারিক পুনর্মিলন, দাম্পত্য দায়িত্ব এবং আত্মসংযাপন নিয়েও গান্ধীর মতামত পাওয়া যায়।
হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান্ধীর এসব লেখা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছিল। ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ নামে ৮৬টি লটে সংগ্রহটি নিলামে তোলে স্যাফরনআর্ট।
আরও পড়ুন: স্লিপার বাস নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বসবে বিআরটিএ
নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল গান্ধীর হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনার সংগ্রহ। এর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ থেকে ২৫ কোটি রুপি। শেষ পর্যন্ত এটি ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়, যা প্রায় ১২ লাখ পাউন্ডের সমান।
এ ছাড়া গান্ধীর ঈশ্বর ও ভগবদ্গীতা বিষয়ক ভাবনা নিয়ে তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির একটি সংগ্রহ ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। তাঁর বহনযোগ্য বাক্স-চরকা বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ রুপিতে।
তবে গান্ধীর ঐতিহাসিক দলিল ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিলামে বিক্রি হওয়ায় ভারতে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে বেদনাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কবে? জানা গেল
তাঁর মতে, গান্ধীর মূল চিঠি, পাণ্ডুলিপি ও ব্যক্তিগত সামগ্রীকে শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এগুলো ভারতের অভিন্ন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
নিলামে সংগ্রহটির ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্যাফরনআর্ট জানিয়েছে, ক্রেতা ভারতেরই একজন নাগরিক এবং এসব পাণ্ডুলিপি ভারতেই সংরক্ষিত থাকবে।
