ইউএনও অফিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, এখনো বহাল অভিযুক্ত
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি; সংগৃহীত
শেরপুরের শ্রীবরদী ইউএনও কার্যালয়ে সুইপার ও মালী পদে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ইউএনও কার্যালয়ের সিএ ইনসান আলীকে বদলি করা হলেও অভিযুক্ত গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিধবা মুক্তা হরিজনের কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেন উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও ইউএনও কার্যালয়ের সিএ ইনসান আলী। এদিকে, টাকা নেওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে মুক্তা হরিজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে চলিত বছরের জুন মাস পর্যন্ত চাকরি করার পর তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ সময় চাকরি হারানোর পর চার লাখ টাকা ফেরত পেতে তিনি রফিকুল ইসলাম ও ইনসান আলীর কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও টাকা ফেরত পাননি। পরে নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তা। তার দাবি, ওই রাতেই তাকে ডেকে নিয়ে ঘুষের টাকার আংশিক ফেরত দেওয়া হয় এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন সিএ ইনসান আলীকে বদলি করলেও, অপর অভিযুক্ত গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীবরদী ইউএনও কার্যালয়ে সিএ ইনসান আলী, গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও ফটোকপি মেশিন অপারেটর আ. মজিদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদে মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
আরো পড়ুন: উত্তাল সাগরে উল্টে গেল ট্রলার, প্রাণে বাঁচল ১৬ জেলে
অভিযোগ রয়েছে, ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী স্থায়ী ভিত্তিতে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় অনুমোদনের কথা দেখিয়ে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে মাসের পর মাস একই ব্যক্তিকে নিয়োজিত রাখার অভিযোগও রয়েছে।
মুক্তা হরিজনের অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে একই পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে উপজেলা পরিষদের মালী পদে ফটোকপি মেশিন অপারেটর আ. মজিদের ছোট ভাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদে দৃশ্যমান কোনো বাগান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মালী পদে জনবল রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মুক্তা হরিজন বলেন, “ইউএনও স্যারের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজ করতে হতো। ইউএনও স্যারের বাংলোর বাগানও পরিষ্কার করানো হতো। মাসে চার দিন ছুটি চাইলেও দেওয়া হতো না। বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর সন্তান ও শাশুড়ির সেবা-শুশ্রূষা করতে হতো। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। টাকা ফেরত না পেয়ে ডিসি স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ দেওয়ার পর রাতে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করিয়ে নেওয়া হয়।”
আরো পড়ুন: ব্যাগে মিলল ৩১ ভরি স্বর্ণ
তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিএ ইনসান আলী। তিনি বলেন, “কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মুক্তা হরিজন ভুল বুঝতে পেরে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”
এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট ইনসান আলীকে বদলি করা হলেও, অভিযোগে জড়িত অপর কর্মচারী গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা আহমেদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।”
সচেতন মহলের দাবি, একই ঘটনায় একজন অভিযুক্তকে বদলি করে অপর অভিযুক্তকে একই কর্মস্থলে রেখে তদন্ত করা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব কর্মচারীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
