আসিফ মাহমুদ
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদেই ১১ দলের লংমার্চ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ১১ দলীয় জোট লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও সামরিক চুক্তির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ধরনের ভূতুড়ে বিল পরিশোধ করেও নাগরিকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম ও বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে একই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তার মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়।
প্রবাসী কর্মীদের বিদেশযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের কষ্টের বিষয়গুলো তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। এটি শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশ নয়; বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধেও একটি প্রতিবাদ।
