ইবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ১৯ বহিরাগত শনাক্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র হাতে থাকা ১৯ জন বহিরাগতকে শনাক্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এক ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রশিবিরের এক নেতার থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষের পর শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
অস্ত্র হাতে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে
ভিডিও ফুটেজ ও ছবির ভিত্তিতে অস্ত্র হাতে শনাক্ত হওয়া ১৯ জন হলেন- পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসুল এবং চরশান্তিডাঙার মিকদাদ।
তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের একজন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেননি। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা উসকানি দেওয়ায় তাদের ধাওয়া করা হয়েছিল।
মানওয়ার বলেন, সেখানে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের হাতে লাঠি ছিল, তবে অস্ত্র ছিল না।
বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের
ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল কোনো বহিরাগতকে নিয়ে আসেনি। বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো সেখানে আসতে পারে।
পুরো ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে রাফিজ আহমেদ বলেন, তারা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর আস্থা রাখছেন।
আরও পড়ুন: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের বিধিমালা জারি, নিষিদ্ধ যেসব বিষয়
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত শুরু, নিরাপত্তা জোরদার
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়সহ সংঘর্ষের সার্বিক ঘটনা তদন্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর রাত থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে টহল দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ও সচেতন রয়েছে।
