রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীদের শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে স্থানীয় মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে কাজ করছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে শুধু শিশুদের টিকাদান নয়, প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও রোদে দাঁড়িয়ে মায়েরা শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন, যা কেন্দ্রটির প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা বলেন, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর চলেছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও কেন তা বন্ধ করা গেল না, সে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তাসনিম জারা আরও বলেন, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে দখলের এমন প্রবণতা কেন তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাঙচুরের কারণে স্বাস্থ্যসেবায় তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার, দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। আগে রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের ফোন করে পরবর্তী টিকার সময় জানাতেন। এখন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে সেই যোগাযোগ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো অভিভাবক টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে শিশুর নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার প্রস্তুত এবং প্রতিটি শিশুর টিকাদানের তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নিতে হবে।
তাসনিম জারা বলেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত কক্ষে বসে টিকা নেওয়ার সুযোগ পেলেও এখন খোলা রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ভিড়ের কারণে অনেক অভিভাবক ফিরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবাও বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য। প্রশাসন দ্রুত এসব কক্ষ খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবার কিছু কার্যক্রম আবার চালু করা সম্ভব।
সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মীরা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ অবস্থায় ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে টিকাদানসহ অন্যান্য জরুরি সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
