×

রাজশাহী

সৌদিতে আগুনে ছাই ৩ প্রবাসীর ভবিষ্যৎ, আহাজারিতে ভারী নলডাঙ্গার বাতাস

Icon

কাগজ প্রতিবেদক, নাটোর

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

সৌদিতে আগুনে ছাই ৩ প্রবাসীর ভবিষ্যৎ, আহাজারিতে ভারী নলডাঙ্গার বাতাস

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা গ্রামের তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হল খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুর পাড়ার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির আহমেদ শুভ (২৯), দিঘীরপাড় এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) ও মহিডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮)।

নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানদের হারিয়ে শুধুই বিলাপ করছেন নিহতদের বাবা, মা ও পরিজনরা। তাদের পরিবারে এখন শুধুই শোকের মাতম। নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইব্রাহীম হোসেন, খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার আরিফ হোসেন ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মরদেহগুলো দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ ক্ষতিপূরণের দাবি স্বজনদের। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে এই নিহত তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মধ্যে শামীম হোসেন আট মাস আগে দেশ থেকে সৌদি আরব যান। গত এক মাস আগে তাঁর এক সন্তান জন্ম নেয়। এই খবরে শামীম অনেক খুশি হলেও দেশে ফিরে সন্তানের মুখ দেখা হলো না তাঁর। তার আগেই তাঁকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।

আরও পড়ুন: আত্রাই জুড়ে কান্নার রোল, সৌদিতে কারখানায় আগুনে ছাই ১৩ প্রবাসীর স্বপ্ন

নিহত শামীম হোসেনের বাবা জাকির হোসেন এবং মাতা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরকারের কাছে আকুল আকুতি জানান, তাঁর সন্তানের মরদেহটি তাঁদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার। অনেক আশা নিয়ে তাঁর সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। তাঁর এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। তার ছেলের এক মেয়ে রয়েছে, সরকার যেন তার ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দেয়।

অপর দুজনের একজন ৫ বছর আগে ও একজন তিন বছর আগে সৌদি আরব যান। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তানেরা মানুষের নিকট থেকে ধারদেনা করেই বিদেশ যায়। এখনো তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতেও ঋণ রয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, তাদের আর ভাগ্যের চাকা ঘোরানো বা দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করার সৌভাগ্য হলো না। সুখের সংসার গড়া হলো না তাদের। নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে তাদের সন্তানেরা ধারকর্জ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। সেখানে রিয়াদের এক সোফা তৈরির কারখানায় কাজ নেয় তারা। সেই কারখানায় এক অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় তাদের।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবের এক সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ডে একই এলাকার ৪ যুবকের করুণ মৃত্যু হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৪, আহত ১০

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৪, আহত ১০

দোকানে ঢুকে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

দোকানে ঢুকে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App