বাঘায় নবজাতকের মৃত্যু, ভিডিও ধারণে বাধার অভিযোগ
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে রাজশাহী শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে নবজাতককে ক্লিনিক থেকে রাজশাহী শহরে রেফার্ড করার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন এক সংবাদকর্মী। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য ওই সংবাদকর্মীর মোবাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা বক্তব্য দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঘা পৌর সদরের জননী ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর নবজাতককে মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত রাজশাহী শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রেফার্ড করা হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নবজাতককে ক্লিনিক থেকে নেওয়ার সময় এক সংবাদকর্মী ঘটনাটি ভিডিও করেন। বিষয়টি ক্লিনিকের এক নার্স কর্তৃপক্ষকে জানালে ডা. আকতারুজ্জামান ওই সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদকে ডেকে ভিডিওটি মুছে দিতে বলেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে সংবাদকর্মীর কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন জননী ক্লিনিকের সামনে একটি সাদা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। ক্লিনিক থেকে একে একে নারী ও শিশুরা বের হয়ে গাড়িতে উঠছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এ ক্লিনিকে এর আগেও অপারেশনের পর জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এখন ভিডিও ধারণেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ডা. আকতারুজ্জামান বলেন, তিনি ও অ্যানেসথেশিয়ার চিকিৎসক ডা. তুহিন মিলে অপারেশনটি করেছেন। তার দাবি, অপারেশন সফল ছিল। ডা. তুহিন জানিয়েছেন, নবজাতকের গলায় নাড়ির প্যাঁচ ছিল। প্রাথমিক পরিচর্যার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে রাজশাহী শহরে রেফার্ড করা হয়।
উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, শহরে চিকিৎসা দেওয়ার আগেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির এক নিকটাত্মীয়ের দাবি, নবজাতক মারা গেলেও বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলেছিল, শহরে নিয়ে গেলে শিশুটি সুস্থ হয়ে যাবে।
সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মৃতপ্রায় অবস্থায় শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছিল। জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আমি ভিডিও করি। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ডা. আকতারুজ্জামান আমাকে ডেকে ভিডিও ডিলিট করার জন্য মোবাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলেও তার চেষ্টা সফল হয়নি।’
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা ও মোবাইল নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। বাঘা প্রেসক্লাবের নেতারা এভাবে তথ্য আড়ালের চেষ্টা নিন্দনীয় উল্লেখ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
