লালমনিরহাট
চাঞ্চল্যকর উজ্জ্বল হত্যা মামলার প্রধান আসামি আনন্দ গ্রেপ্তার
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের আদিতমারী থানার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর উজ্জ্বল হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ওরফে আনন্দ (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে র্যাব-১৩-এর একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ পাহারায় আসামি আনন্দকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন আদিতমারী থানা-পুলিশ।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ওরফে আনন্দ আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী তালুক দুলালী গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে। গত ২রা জুন সকালে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি হলে গুরুতর আহত হন উজ্জ্বল। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান উজ্জ্বল।
ঘটনার পরে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ০৮ জুন উজ্জ্বলের পরিবার আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি আনন্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে আসছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছিল।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র্যাব-১৩ জানতে পারে যে, আনন্দ কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে র্যাবের একটি চৌকস অভিযানিক দল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় গতকাল রাতে ফুলবাড়ী থানার দুর্গম ‘গোরপ মণ্ডপ’ এলাকায় যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন সময়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে সুকৌশলে কুখ্যাত এই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩। পরে সকালে তাকে আদিতমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদিতমারী থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উজ্জ্বল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন আদিতমারী থানা-পুলিশ।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব ভোরের কাগজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধের পেছনের প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য আদালতে আসামির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
