জমির বিরোধের জেরে চাচার হাতে ভাতিজা নিহত, আহত ২
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে আপন চাচার হাতে আব্দুল জলিল (৩৫) নামের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের আরও দুই ভাই গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই গ্রামে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধওলাই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিলের পরিবারের সঙ্গে তার আপন চাচা আব্দুর রাজ্জাকের পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও মনোমালিন্য চলছিল। একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শনিবার দুপুরে বাড়ির সীমানার ভেতর থাকা একটি খড়ের গাদা অপসারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।
চাচা আব্দুর রাজ্জাক তাৎক্ষণিকভাবে খড়ের গাদাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভাতিজাদের চাপ দেন। কিন্তু জলিল ও তার ভাইয়েরা সময়স্বল্পতার কারণে কয়েক দিন পর তা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আব্দুর রাজ্জাক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আচমকা জলিলের পরিবারের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।
হামলায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন আব্দুল জলিল, তার ভাই হামিদ ইসলাম ও হারুন। পরে তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে তিন ভাইকে উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আব্দুল জলিলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুই ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহতের ছোট ভাই হারুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা শুধু বলেছিলাম খড়গুলো কয়েক দিন পর সরিয়ে নেব, এই সামান্য কারণেই তারা আমার ভাইকে খুন করল। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ন্যায়বিচার চাই।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী ভোরের কাগজকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধওলাই গ্রামে পুলিশের একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জমিজমাজনিত পারিবারিক শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো ধওলাই গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
