হাঁসফাঁস গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘শীতল ছায়া’
হাবিবুর রহমান হবি সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা তাপদাহে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব বিশেষ বিশ্রামাগার ‘শীতল ছায়া’। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথচারী, কৃষিশ্রমিক, নারী ও শিশুরা এসব বিশ্রামাগারে আশ্রয় নিয়ে তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন।
সম্প্রতি উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় বাঁশ ও ছনের তৈরি দৃষ্টিনন্দন এসব বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপদ বিশ্রামের পাশাপাশি সেখানে বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাতটি ‘শীতল ছায়া’ নির্মাণ করেছে। চরকানি, চরিতাবাড়ী, তারাপুর, বেলকা কিশামত সদর, পশ্চিম ছাপরহাটি, উজান তেওড়া ও কশিমবাজার ঘাট এলাকায় এসব বিশ্রামাগার স্থাপন করা হয়েছে।
গণউন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তরাঞ্চলে তাপদাহের তীব্রতা বেড়েছে। খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, দিনমজুর, পথচারী এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ কমাতেই পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে এসব বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, উদ্যোগটি শুধু গরম থেকে সাময়িক স্বস্তিই দিচ্ছে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর উদাহরণও তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন।
বিশ্রামাগারে আশ্রয় নেওয়া শাহানা বেগম বলেন, তীব্র রোদের মধ্যে কৃষিজমিতে কাজ করতে এসে আগে বিশ্রামের কোনো জায়গা ছিল না। এখন ‘শীতল ছায়া’তে বসে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ছনের গোল ছাউনি ও বাঁশের তৈরি বিশ্রামাগারগুলো স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, কৃষিশ্রমিক, নারী ও শিশুদের জন্য উপকারী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি টিউবওয়েলের মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
গণউন্নয়ন কেন্দ্রের ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপদাহ ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাতটি বিশ্রামাগার এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
