বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএসইসির মুখপাত্রের দপ্তর থেকে পাঠানো চেয়ারম্যানের একটি লিখিত বক্তব্যে এ কথা জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “গত ২১ মাস ধরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কাজে মনোনিবেশ করার জন্য এই সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষপদে পরিবর্তনের মধ্যে স্টান্ডার্ড ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকার রাশেদ মাকসুদকে ২০২৪ সালের ১৮ অগাস্ট বিএসইসির নেতৃত্বে আনে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
দেশি বিভিন্ন ব্যাংকের পাশাপাশি সিটিব্যাংক এনএ এর মত বিদেশি ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা রাশেদ মাকসুদকে চার বছরের জন্য চেয়ারম্যানের পদে বসিয়ে পুঁজিবাজারের আস্থা ফেরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তর নতুন করে ঢেলে সাজানো শুরু হয়।
বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা সবচেয়ে উত্তাল সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম এবং দ্রুত আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলার একটি দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার শুরু করি।
“এই স্বল্প সময়ে আমরা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিধি (মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ, হুইসেলব্লোয়ার) গেজেটভুক্ত করেছি। এছাড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য তিনটি খসড়া বিধি/নির্দেশিকা (কর্পোরেট গভর্নেন্স, অডিট, কর্পোরেট পুনর্গঠন) প্রকাশ করেছি। দুটি আইনের (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ও ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন) খসড়া তৈরি করেছি।”
তিনি বলেন, “বাজারে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলাম এবং পরিপালন/বাস্তবায়ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি। আমরা আইনের শাসন পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত অংশীজন সম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে সমস্ত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা অপসারণ করেছি এবং বাজার, মধ্যস্থতাকারী ও ইস্যুকারীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দিয়েছি।
“ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের দ্বারা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের তৃণমূল স্তরে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও শিক্ষায়ও ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছি।”
রাশেদ মাকসুদ বলেন, “পরিশেষে, পুঁজিবাজারে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সুযোগে আমরা আমাদের সকল সহকর্মী, অংশীদার এবং সরকারকে তাদের নিবেদিত সমর্থন ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
