রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ম্যাচ জিতল টাইগাররা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১০:০০ পিএম
হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪র্থ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিং জুটিতে ১০১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার -ইন্টারনেট
সহজ ম্যাচ কঠিন করে জেতা যেন টাইগারদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তৃতীয় ম্যাচে ৯ রানে জেতার পর শুক্রবার রোডেশিয়ানদের ৬ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (১০ মে) জিম্বাবুয়ে হাথুরুসিংহের শিষ্যদের ভালই পরীক্ষা নিয়েছে। ম্যাচ জিততে জিততে অনভিজ্ঞতার কারণে হেরেছে সিকান্দার রাজার বাহিনী।
শুক্রবার ম্যাচের ভাগ্য শেষের দিকে পেন্ডুলামের মত একবার টাইগারদের দিকে আরেকবার রোডেশিয়ানদের দিকে ঝুকেছে। শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিলো ১৪ রান। ছক্কা হাঁকিয়ে মুজারাবানী রোডেশিয়ান শিবিরে আশার আলো জাগালেও শেষ রক্ষা হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। ফলে ৫ রানে ম্যাচ জিতে নেন স্বাগতিকরা। এক বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে ব্যাট হাতে ভাল করতে না পারলেও বল হাতে সাকিব আল হাসান গতকাল ৩৫ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। আইপিএল ফেরত মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরা হন। শুক্রবার পেসার তাসকিন আহমেদ ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
টস হেরে শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তোলে টাইগাররা। এ সময় তানজিদ ২৭ বলে ৪০ এবং সৌম্য সরকারের রান ছিল ৯ বলে ৬ ।
নবম ওভারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ৩৪ বল খেলা তানজিদ। অর্ধশতকের পর ব্যক্তিগত ৫১ রানে ক্যাচ তুলে দিয়েও জীবন পান তিনি। কিন্তু আর মাত্র ১ রান যোগ করে ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে পেসার লুক জঙ্গুয়ের বলে আউট হন ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৫২ রান করা তানজিদ। একই ওভারে জঙ্গুয়ে সাজঘরে ফেরান ওপেনার সৌম্য সরকারকে। ৩৪ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ৩টি চার আর দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি।
উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ-সৌম্য ৬৮ বলে ১০১ রান করেন। সৌম্যের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয় শুরুটা করেছিলেন ভালোই। কিন্তু আগের ম্যাচের মতো সুবিধা করতে পারেননি তিনি। সিকান্দার রাজার বলে ৮ বলে ১২ রানে করেই ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন হৃদয়। পরের ওভারে সাকিব আল হাসান ৩ বলে ১ করে বোল্ড হন বেনেটের বলে। সাকিবের পথে হাঁটেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। একই ওভারেই বোল্ড হন তিনিও। ৭ বলে অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। এরপরে সাজঘরে ফেরার তাড়ায় ব্যস্ত হয়ে একে একে মাঠ ছাড়েন জাকের আলী, রিশাদ হোসাইন, তানজীম হাসান সাকিব। জিম্বাবুয়ে হয়ে বেনেট ৩ টি এবং জঙ্গুয়ে, ফারাজ আকরাম, মান্দান্দে, মোজারাবানী ১টি করে উইকেট নেন। তাতে ১৯.৫ বলে ১৪৩ রানের ছোট পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।
জবাবে ১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে, তাসকিনের বলে ৪ বল খেলে রান ছাড়াই সাজঘরে ফিরেন বেনেট। এরপর বেনেটের জায়গা নেয়া রাজা ২ ওভারে তানজিদ হাসানকে তিনটি চার মেরে দলীয় সংগ্রহ বাড়ান। তবে বেশীক্ষণ ২২ গজে থাকতে পারেন নি রাজা, ফিরতি ওভারেই তাসকিনের বলে ১০ বলে ১৭ রান করে মাঠ ছাড়েন রাজা। এরপর দলকে বড় পুঁজি এনে দেন এই সিরিজে অভিষিক্ত জনাথন ক্যাম্পবেল। তিনি ২৭ বলে ৩১ করে সাকিব আল হাসানের বলে আউট হন।
