সিলেটে ভয়াবহ হাম পরিস্থিতি, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ
নজরুল ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটে হাম পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৩৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০৫ জন।
এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৪ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৬ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৮ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে ১৬১ জন রোগী ভর্তি আছেন।
এ ছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
হামজনিত মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে সিলেটে ৫৬ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জন মারা গেছেন।
সব মিলিয়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
এক দিনে ১৩৮ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হওয়া এবং বর্তমানে ৪০৫ জনের চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য থেকে সিলেটের হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এসব পদক্ষেপ জোরদার করা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
