সিলেট ট্রিপল মার্ডার
ইম্পালস টাওয়ারের জমি বিরোধের নেপথ্য খতিয়ে দেখার দাবি
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরের রায়নগরে ভূমি-সংক্রান্ত মামলার বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি এ দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সমন্বয়ক মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট নগরের ১১১ মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। আবদুস সাত্তার পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের একটি মামলার বাদী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং বিমান কিনবে বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় ইম্পালস টাওয়ার নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। আবদুস সাত্তার ও তাঁর পরিবার ওই ভূমির একটি অংশ লিজ নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরবর্তীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে ইম্পালসের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ভূমি বিরোধের জেরে আবদুস সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় আবদুস সাত্তারসহ তিনি নিজেও আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ ছাড়া হুমকির ঘটনায় সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি নিয়ে চলমান বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের নামে করা ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর সাফকবলা দলিল এবং ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর লিজ দলিলের বৈধতা নিয়ে স্বত্ব ৩৭/২০১২ নম্বর মামলা করা হয়। ওই মামলায় অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ আদালত দলিল দুটি অকার্যকর ঘোষণা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা ৪৮৪/২০১৪ নম্বর ফার্স্ট আপিল হাইকোর্ট বিভাগ খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নামজারি রিভিউ মামলার রায়ে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের নামে থাকা নামজারি বাতিল করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির নামে নামজারি বহাল রাখা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিরোধপূর্ণ ভূমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে বিবিধ ১১/২০২৫ নম্বর মামলা করা হয়েছিল। তবে স্বত্ব ৭৩/২০২৩ নম্বর মামলা বিচারাধীন থাকায় ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। চলতি বছরের ২৮ জুলাই যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলাটি বিনা বিচারে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর স্থগিত ভূমি মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্তৃক দেওয়া একটি আদেশকে বেআইনি দাবি করে তা বাতিলের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। একই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করে এর অগ্রগতি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইম্পালস টাওয়ার-সংক্রান্ত ভূমির নথিপত্র যাচাই এবং জাল দলিল ও অবৈধ দখলের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিজগ্রহীতা নাজমুল ইসলাম, শামছুল ইসলাম শাহীন ও সোহেল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
