নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে যা বলল সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বা নবম পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ এড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
পেনশনেও পরিবর্তন
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (OROP) ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় OROP একবারে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
এর পরিবর্তে বর্তমানে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জন্য স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে।
প্রতিবন্ধী সন্তান ও মোবাইল ভাতা
নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন মূলত পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন।
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, ধাপে ধাপে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে। একই সঙ্গে একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে মূল্যস্ফীতির প্রভাবও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
