হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে যেকোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়েই এ রোগে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ভাইরাসটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান লক্ষণ শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ প্রকাশ পায় এবং তা ধীরে ধীরে মাথা থেকে শরীরের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে শুরু করে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকে।
হাম হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায়
- উচ্চ জ্বর
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- কাশি
- চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
- চ্যাপ্টা লাল ফুসকুড়ি, যা পরে উঁচু হতে পারে
হাম হলে শিশুকে যা খাওয়াবেন
হাম থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সুষম পুষ্টি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এ সময় শিশুর জন্য পরিকল্পিত ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা প্রয়োজন।
- ফলের রস ও হালকা খাবার: প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষুধা বাড়ে এবং শরীর কিছুটা শক্তি পায়।
- পর্যাপ্ত তরল খাবার: পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি, স্যুপ, পানিযুক্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম তরল খাবার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন ‘এ’ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার উপকারী।
- জিংকসমৃদ্ধ খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য উপকারী।
- ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবার: লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুন : বিশ্বজুড়ে হামের ভয়াবহ সংক্রমণ, নেপথ্যে যে কারণ
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
- অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার
- ঝাল খাবার (গলা ও কাশি বাড়াতে পারে)
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (পানিশূন্যতা বাড়ায়)
অতিরিক্ত যত্ন
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রামের সমন্বয়ই দ্রুত আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।
এ সময় শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
