ঠেরক্যান বিলে জলাবদ্ধতা, ৩০০ বিঘা জমি অনাবাদি
মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া মণ্ডলপাড়া এলাকার ঠেরক্যান বিলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শতাধিক কৃষক বছরের পর বছর চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এসব জমিতে ধান, পাট, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিলে পানি আটকে থাকায় জমিগুলো এখন প্রায় সারা বছরই চাষের অনুপযোগী।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বলেন, বিলের পানি বের হওয়ার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। প্রতিবছর একই সমস্যায় কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত খাল সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকেরা আবার জমিতে ফসল ফলাতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে ঘুষ নিলেন পুলিশ, তোলপাড়
কৃষক মো. মজিদ মণ্ডল বলেন, এই জমির ফসল বিক্রি করেই পরিবার চলত। এখন বছরের পর বছর জমিতে চাষ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছি। কৃষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জমি আছে, কিন্তু পানি না নামায় কোনো ফসল আবাদ করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।

কৃষক মো. মজনু মণ্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষিকাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। কৃষক মো. আব্দুল বারেক বলেন, সরকার যদি খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজব্যবস্থা উন্নয়ন করে, তাহলে এই বিলের শত শত বিঘা জমি আবার চাষের আওতায় আসবে। এতে কৃষকের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ঠেরক্যান বিলের প্রায় ৩০০ বিঘা কৃষিজমি আবার উৎপাদনের আওতায় আসবে। তাই তারা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
