যে কারণে গরমে গ্যাস্ট্রিক ও হজম সমস্যা হয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গরমে তীব্র তাপমাত্রা ও ডিহাইড্রেশনের কারণে পাকস্থলীর অম্লতা বাড়ে এবং হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, গ্রীষ্ম ও বর্ষা হলো ‘পিত্ত’ বা অগ্নি উপাদানের ঋতু। অতিরিক্ত গরমে এই পিত্ত দোষ বৃদ্ধি পায় এবং হজমের অগ্নি অতিরিক্ত তীক্ষ্ণ হয়ে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও বদহজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা যত বাড়ে, অনেকেরই হজমজনিত সমস্যা তত বেশি দেখা দেয়।
অতিরিক্ত গরম, ঘাম, শরীরের পানির ঘাটতি এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে শরীর খাবার ঠিকমতো হজম করতে পারে না এবং একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব কিংবা খিদে কমে যাওয়া এই সময়ে খুবই সাধারণ উপসর্গ।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে হজম ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। অতিরিক্ত ঘাম, ডিহাইড্রেশন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস পাকস্থলীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে হজমতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যায়।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে শরীরে ‘আম’ নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে জমে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরো পড়ুন : তীব্র গরমে বাড়ছে রক্তচাপ, যেভাবে স্বাভাবিক থাকবেন
হজমে গোলমাল হলে শুধু পেটের সমস্যা নয়, পুরো শরীরেই এর প্রভাব পড়ে। ‘আম’ জমার ফলে ক্লান্তি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল বিপাকক্রিয়া, অম্বল, গ্যাস ও হজমজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। শরীরের প্রতিটি কোষ ও অঙ্গ পুষ্টি পায় হজমের মাধ্যমে, তাই সুস্থ হজমশক্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও মনে করে যে ডিহাইড্রেশন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
গরমে হজমশক্তি ভালো রাখতে করণীয়
কিছু সহজ অভ্যাস হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘোল ও লেবুর শরবত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। হালকা ও টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়া ভালো, আর অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও বেদানার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে নিজের হজম ক্ষমতা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
আয়ুর্বেদে যোগব্যায়াম, ধ্যান ও প্রাণায়ামের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শীতলী ও ভ্রমরী প্রাণায়াম শরীরের অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া সকালে হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত জীবনযাপন বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক। গরমকালে অ্যালোভেরা, গোলাপ, খাস, গুলকন্দ, চন্দন ও গন্ড কাতিরার মতো প্রাকৃতিক শীতল উপাদান ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ঋতু অনুযায়ী জীবনযাপন মেনে চললে গরমেও হজমশক্তি সুস্থ রাখা সম্ভব।
