কসবা থানা চত্বরে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে জব্দ যানবাহন
খ.ম. হারুনুর রশীদ ঢালী, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপ, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ শতাধিক যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় অযতেœ পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি ও সময়ের ব্যবধানে অনেক যানবাহনের যন্ত্রাংশ মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে থানা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয়েছে স্থানসংকট।
সরজমিন দেখা যায়, জব্দ করা অধিকাংশ মোটরসাইকেলের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে, অনেকগুলোর টায়ার নষ্ট, যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে। কিছু যানবাহনের চারপাশে আগাছাও জন্মেছে। থানা প্রাঙ্গণে প্রাইভেটকার, পিকআপ, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশাও দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে পড়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক, চোরাচালান, চুরি, ডাকাতি, সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য ফৌজদারি মামলার আলামত হিসেবে এসব যানবাহন জব্দ করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া এবং আদালতের নির্দেশনা ছাড়া হস্তান্তর বা নিলামের সুযোগ না থাকায় বছরের পর বছর এগুলো থানায় সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।
কসবা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় জব্দ যানবাহনগুলো অযতেœ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিষ্পত্তিযোগ্য যানবাহনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া দরকার।
কসবা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জিয়াউল হুদা শিপন বলেন, জব্দ যানবাহনগুলো রাষ্ট্রের সম্পদ। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে থানা প্রাঙ্গণের স্থানসংকটও কমবে।
কসবা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, থানায় জব্দ আলামত সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী গ্যারেজ বা শেড নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে মূল্যবান যানবাহন নষ্ট হওয়া রোধের পাশাপাশি আলামতও নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
কসবা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রার্থী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, মালিকবিহীন যানগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল অর্থ জমা হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, নিলামযোগ্য যানবাহন বিক্রি এবং জব্দ আলামত সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও থানা প্রাঙ্গণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা- দুই-ই নিশ্চিত হবে।
কসবা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ ভোরের কাগজকে বলেন, থানায় জব্দ করা বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন রয়েছে। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রাখতেই হচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
