ব্রাজিল-জাপান টিকে থাকার মহাযুদ্ধ আজ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপে এখন আর ভুল করার সুযোগ নেই। একটি ম্যাচ, একটি জয় কিংবা একটি হারই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে এমনই এক হাইভোল্টেজ নকআউট লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ম্যাচটির গুরুত্ব একটাই- জয়ী দল উঠবে পরের পর্বে, পরাজিত দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ।
গ্রুপ পর্বে শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলের প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে সেলেসাওরা। আক্রমণে ধার থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা। সেই ড্র ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকেও একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অন্যদিকে নেইমারও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফিরছেন। যদিও এখনো তার কাছ থেকে সেরাটা দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা। অন্যদিকে জাপান এবারো প্রমাণ করেছে, তারা আর শুধু এশিয়ার শক্তিশালী দল নয়, বিশ্ব ফুটবলেও বড় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য রাখে। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র, তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া এবং সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা নকআউটে জায়গা করে নেয়। পুরো টুর্নামেন্টেই গতি, শৃঙ্খলা ও দলগত ফুটবল খেলেছে হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা।
তবে একটি জায়গা জাপানকে ভাবাচ্ছে। গোল করার পরপরই রক্ষণে মনোযোগ হারিয়ে দ্রুত গোল হজম করার প্রবণতা দেখা গেছে তাদের খেলায়। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন- দুই ম্যাচেই এগিয়ে বা সমতায় ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই গোল খেয়েছে তারা। জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনেইয়াসু মিয়ামোতোও স্বীকার করেছেন, নকআউটে এই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে মূল্য দিতে হবে।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য স্পষ্টভাবে ব্রাজিলের পক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৪ বারের দেখায় ১১টিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, জাপানের জয় মাত্র একবার। তবে সেই একমাত্র জয়টিই এসেছে গত বছরের অক্টোবরে। টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জাপান। সেই স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেনি ব্রাজিল।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমও তাই নিজেদের দলকে আত্মতুষ্টিতে না ভোগার সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে জাপানের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা দাইচি কামাদাকে তারা সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দক্ষতায় তিনি হতে পারেন ম্যাচের বড় পার্থক্য।
জাপানের আত্মবিশ্বাসও কম নয়। গত কয়েক বছরে তারা জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এবারের বিশ্বকাপে এসেছে বলে একাধিকবার জানিয়েছেন কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তবে বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা কখনো শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি। তাই আজকের ম্যাচ তাদের সামনে ইতিহাস বদলে দেয়ারও সুযোগ।
অন্যদিকে ব্রাজিলের লক্ষ্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা। সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজকের পরীক্ষায় উতরাতেই হবে। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড ও ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকলেও গতি, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জাপানকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তাই হিউস্টনের এই নকআউট লড়াই শুধু দুই দলের নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও এক আকর্ষণীয় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
