ট্রাইব্যুনাল
তিন অভিযোগে ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট ৮টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৩টি প্রমাণিত হয়েছে। সে জন্য তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আর বাকি পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
৮ অভিযোগ কী কী- প্রথম অভিযোগ : ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সা¤প্রদায়িক আখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি। যদিও এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয় অভিযোগ : ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে শুট অ্যাট সাইটের সিদ্ধান্ত হয়। ইনু সে সভায় উপস্থিত থেকে শুট অ্যাট সাইটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি দেন ও সহায়তা করেন। এ অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।
তৃতীয় অভিযোগ : ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন ও তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। চতুর্থ অভিযোগ : আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা ও ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পঞ্চম অভিযোগ : গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া। সরকারের নেয়া হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সপ্তম অভিযোগ : শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অষ্টম অভিযোগ : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ। এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে গতকাল কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হলো। রায়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হলো। ৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হলো। ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। আসামির বিরুদ্ধে আরোপিত কারাদণ্ডের সব সাজা যুগপৎ চলতে থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থাৎ ইনু মোট ১০ বছর কারাভোগ করবেন।
