যাত্রীদের ভোগান্তি
শেরওয়ানির জন্য রানওয়ে থেকে ফিরল ফ্লাইট
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাসায় ফেলে আসা শেরওয়ানির জন্য রানওয়ে থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইট আটকে দিলেন এক যাত্রী। তিন ঘণ্টা পর সেই শেরওয়ানিসহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামে উড়াল দিল ফ্লাইটটি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক পাইলট যাত্রীর প্রভাবে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েন অন্যসব যাত্রীরা। গত শুক্রবার ঘটে এমন ঘটনা। এ ঘটনায় এভিয়েশন সেক্টরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ একমাত্র নিরাপত্তা ও জরুরি কারণ ছাড়া এভাবে রানওয়ে থেকে আবার বে তে ফিরে যাওয়া আইনত সিদ্ধ নয়।
তবে এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত এয়ারক্রাফটির এয়ারকন্ডিশনিং ইউনিট কাজ না করায় সেটিকে বে তে ফিরে আনা হয়। তবে সেই সময়ই ফ্লাইট থামানো নিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে কেবিন ক্রুদের বাদানুবাদ হয়েছিল। পাইলটও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সেই যাত্রীকে নামাতে তারা বেতে ফিরে যাচ্ছেন।
এয়ার অ্যাস্ট্রার দাবি, পাইলট যাত্রীদের তখন যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি না জানিয়ে অসম্পূর্ণ ঘোষণা দেন; যার কারণে এই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
সূত্রমতে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি বে থেকে ট্যাক্সিওয়ে (বিমানবন্দরের এমন একটি নির্দিষ্ট পথ, যেখানে বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে ও পরে নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাচল করে) করলে হঠাৎ করেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স ফ্লাইট থেকে নেমে যেতে চান। নিয়ম অনুযায়ী অনুরোধ জানানো হলেও বিমান না থামায় তিনি নিজের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। একপর্যায়ে এয়ার অ্যাস্ট্রা ফ্লাইটের পাইলটের ঘোষণা আসে, ওই যাত্রীকে নামাতে তারা আবার বে তে ফিরে যাচ্ছেন। রানওয়ের মুখে এসে এয়ারক্রাফটি ঘুরে আবার বে তে চলে যায়। ওই ফ্লাইটের দুইজন যাত্রীর বর্ণনায় এরকম অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানটি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তবে তাড়াহুড়ায় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন তিনি। এ কারণে উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণের কারণে ফ্লাইটে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) বিধি অনুযায়ী খুব জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া যাত্রী উঠিয়ে ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার পর তা থামানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলছেন, যাত্রীর অনুরোধে এভাবে ফ্লাইট থামানোর কোনো সুযোগই নেই সিভিল এভিয়েশনের কোনো আইনে। ইমারজেন্সি মেডিকেল কন্ডিশন, সিকিউরিটি থ্রেট, কোনো রকমের যান্ত্রিক ত্রুটি বা কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশে এরকম পরিস্থিতিতে ফ্লাইট থামতে পারে।
এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ও পেশাগত নৈতিকতা-দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন কাজী ওয়াহেদুল আলম। এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ বলছেন, ওই যাত্রী যখন ফ্লাইট থামানোর কথা বলছিলেন, তখনই একটু যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে পাইলট ওই এয়ারক্রাফটটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিষয়টা অনেকটা কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। যান্ত্রিক ত্রæটির বিষয়টি বিবেচনা করে পরে ওই এয়ারক্রাফটি আর চালানো হয়নি। পরে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজে ওই যাত্রীদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
ইমরান আসিফ বলেন, শুক্রবার সকালের ওই ফ্লাইটটির যাত্রা শুরুর সময় এয়ারকন্ডিশনিং নিয়ে একটু সমস্যা হয়। ভেতরের গরম বেড়ে যাচ্ছিল। সেটার নিয়মিত চেকআপের পর তাপমাত্রা একটু সহনীয় হলে এয়ারক্রাফটি যাত্রী তুলে বে থেকে ট্যাক্সিওয়ের দিকে যাত্রা করে। সেটি যখন রানওয়েতে লাইনআপ করছিল, তখন ওই যাত্রী ফ্লাইট থেকে নেমে যেতে চান। কেবিন ক্রুরা তাকে জানিয়ে দেন, কোনোরকম মেডিকেল ইমারজেন্সি ছাড়া এরকম সামান্য সম্ভব নয়।
