পলাশবাড়ীর সেই হরিদাস অর্থ পাচারের দায়ে আটক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবায় প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি। গত রবিবার রাতে নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ঢাকায় আনা হয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমেও অর্থ আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২ জুলাই থেকে সিআইডি তার অর্থের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর গত রবিবার মামলা দায়ের করা হয়।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৬ সালে এসএসসি ও ২০০৮ সালে এইচএসসি পাসের পর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়া, বদলি করানো, হুন্ডি ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় আসেন। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার হিসাবে অর্থ জমা করেছেন, যা তার পরিচিত পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। এ ছাড়া বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় করা একটি মামলার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে। সিআইডির দাবি, দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগেরও প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর র?্যাবের যৌথ অভিযানে বনানী থেকে সহযোগীসহ আটক হন হরিদাস। সে সময় নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজ গ্রামের প্রায় দুই একর জমির ওপর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন হরিদাস। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে ও ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তির নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে রিসোর্ট নির্মাণের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি তার আয়ের উৎস অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে একাধিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত রবিবার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় এ দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হরিদাস চন্দ্রের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে।
