×

প্রথম পাতা

সব ধর্মের মানুষ মিলে একসঙ্গে ভালো থাকব

Icon

কাগজ প্রতিবেদক ও বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, দেশ পুনর্গঠনে সরকার তথা বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না। আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

গৌরনদীর বাটাজোরে গতকাল সোমবার ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ রকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরো অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সব পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব।

তিনি আরো বলেন, আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের সব নাগরিক এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কথা বলে থাকি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আসুন সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি : ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সকাল ১০টায় গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে নিম ও নারকেল গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। বাটাজোর বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া খালটি ‘বাটাজোর খাল’ নামে পরিচিত। খালটি বাজারের পূর্ব দিকে সরিকল নদী হয়ে মিয়ারচর নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খালের এক পাড় থেকে গৃহবধূ-কৃষকরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। সরকার প্রধান হাত নেড়ে গ্রামবাসীকে শুভেচ্ছার জবাব দেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, গাছটি রোপণ করেই কাজ শেষ হবে না। আজকে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবাইকে গাছের যতœ করতে হবে। আপনারা যেমন নিজের শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তাকে যতœ করেন, ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যতœ করতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশটাকে সুন্দর ও নিরাপদ, বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সবাইকে মিলে চেষ্টা করতে হবে। সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। দেশটাকে সুন্দর করতে হলে সবাই মিলেই চেষ্টা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসীকে অনুরোধ জানাব, আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে। আমাদের ব্যবহার করা কোনো জিনিস, বিশেষ করে পানির খালি বোতল, আমরা যেখানে-সেখানে ফেলে না দিই। ময়লা দেখতে কারো ভালো লাগে? ময়লা হলে কী হয়? পরিবেশটা ময়লা হয়ে যায়, দেখতেও ভালো লাগে না।

দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ছোট ছোট ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত টিস্যু সবসময় পকেটে জমিয়ে রেখে পরে নির্ধারিত জায়গায় ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি। নিজের ব্যবহার করা টিস্যু নিজের পকেটেই রেখে দেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার পকেটে হাত দিলে টিস্যু বের হবে। একটু আগে মাটি ধরে হাত ধুয়ে ব্যবহার করেছি এই টিস্যু, তারপর সেটা পকেটেই রেখে দিয়েছি। এখানে যদি টিস্যুটা ফেলতাম, তাহলে আপনাদের যা বলছি আমি নিজেই তো সেটি মেনে চললাম না।

তারেক রহমান বলেন, সারাদিনে ব্যবহার করা সব টিস্যুই অনেক সময় প্যান্টের পকেটে জমা হয়। রাতে বাসায় ফিরে ডাস্টবিনে বা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলো ফেলে দিই। এই কাজটি সবসময় করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই আস্তে আস্তে আমার মধ্যে এই অভ্যাসটা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আজ থেকেই চেষ্টা করি, সকলে মিলে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব। এতে করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে পরিবেশটাও সুন্দর হবে। সেই দেশ দেখে সবাই প্রশংসা করবে। নিজের দেশের মানুষ যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি বিদেশিরা বলবে যে, বাংলাদেশ একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজেদের দেশটাকে গুছিয়ে রেখেছে, পরিচ্ছন্ন রেখেছে।

গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে লক্ষ্য করেন তারেক রহমান। তিনি এ বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই দেখুন, খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। আপনাদের বাড়িতে যদি পাঁচ-সাতজন মানুষ থাকে, তার মধ্যে একজন যদি সারাদিন বাড়ি পরিষ্কার করে আর বাকি সবাই ময়লা করে, তাহলে ওই বাড়ি পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। গুছিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। দেশটাও তো ঘরের মতোই। মাত্র কয়েকজন যদি শুধু পরিষ্কার করে আর সবাই নোংরা করতে থাকে, তাহলে এই দেশটাকেও পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। আমাদের সবাইকে মিলেই পরিষ্কার রাখতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে। ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে পরিবেশটাও নোংরা হয়ে যায়, দূষণও বাড়ে। পরিবেশ দূষিত হলে শেষ পর্যন্ত তার ক্ষতি মানুষেরই হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করবে। আমরা যদি আমাদের পরিবেশটা সুন্দর করতে পারি, আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা একটা সুন্দর জায়গায় থাকতে পারবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ দেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমিসংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এখানে তিনি একটি নারিকেল চারা রোপণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী এসব কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ বিএনপি ও অঙ্গস-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফর করেছেন তারেক রহমান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মিয়ানমারে সার ও সিমেন্ট পাচারকালে আটক ২২

মিয়ানমারে সার ও সিমেন্ট পাচারকালে আটক ২২

উজানের ঢলে বেড়েছে কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন

উজানের ঢলে বেড়েছে কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন

ডে কেয়ারে ১৩৬ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ডে কেয়ারে ১৩৬ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভাঙতে নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভাঙতে নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App