ঢাকায় ফের জলাবদ্ধতা, চলাচলে দুঃসহ দুর্ভোগ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আবারো গতকাল সোমবার কয়েক ঘন্টার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ডুবেছে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরীর বাসিন্দারা। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে যাওয়ায় পথযাত্রী, অফিসগামী যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হয়। বিঘিœত হয় যানবাহন চলাচল। তবে রবিবারের চেয়ে সোমবার রাজধানীতে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে, ফলে তুলনামূলক পানি জমেছে কম।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রবিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি। ফলে জলজট থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর মৌচাক, শান্তিনগর, আরামবাগ, কাকরাইল, দোয়েল চত্বর থেকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট এলাকা, বংশাল, তাঁতি বাজার, গ্রিন রোড, পান্থপথ, তেজতুরী বাজার, মণিপুর, ধানমন্ডি ৩২ ও ২৭ নম্বর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, কালশী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু সমান পানি থাকায় মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও যানচলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি থামায় জলাবদ্ধতা কমতে থাকে।
এদিকে সকালের বৃষ্টিতে ফের বনানী, কাকলী, মিরপুর, ইসিবি এবং কুড়িল এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নগরবাসীকে ওই সব রুট বাদ দিয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগ। গুলশান ট্রাফিক বিভাগ জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
ফলে বনানী কবরস্থানের ঢাকা গেটসংলগ্ন মূল সড়কের ইনকামিং এবং আউটগোয়িং উভয় দিকেই কিছুটা জলাবদ্ধতা রয়েছে। যান চলাচল কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে। বনানী/কাকলী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নামার র?্যাম্পের প্রান্তে হালকা পানি জমেছে। যান চলাচল কিছুটা ধীর।
ইসিবি এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনে পানি জমে রয়েছে। ফলে মিরপুর ডিওএইচএস এবং কালশি থেকে ইসিবি হয়ে মাটিকাটা ফ্লাইওভারগামী যানবাহন ধীর গতিতে চলাচল করতে পারছে। যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে বৃষ্টির পানি জমার কারণে এবং ঢাকা ওয়াসার পাইপ লাইনিং কাজের জন্য যান চলাচলে ধীর গতি রয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে বাসা থেকে বের না হতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বংশালের বাসিন্দা সাত্তার মিয়া বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই সব সময় বংশাল এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অথচ কত দুদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে এই এলাকার অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। ড্রেনের ময়লা আবর্জনা সব বাসার ভেতরে ঢুকে গেছে। কীভাবে কখন এই পানি নামবে সেই চিন্তায় আছি। সিটি করপোরেশনে ফোন দিয়ে এই এলাকার সমস্যার কথা জানিয়েছি, বললো কাজ চলমান। কবে যে এই কাজ শেষ হবে তা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় যেহেতু অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, শুষ্ক মৌসুমে এর সমাধান বের করা উচিত ছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কেউ তা নিয়ে চিন্তা করেনি। আগে মেয়র মাঝেমধ্যে মানুষের খোঁজ-খবর নিতো। এখন কোনও জনপ্রতিনিধি নেই, কার কাছে গিয়ে দুঃখের কথা বলবো।
এদিকে শহরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ। মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। অনেক জায়গায় চলন্ত বড় যানবাহনের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীরা ভিজে গেছে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, রবিবার থেকেই আমাদের কর্মীরা জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে আছে। টানা বৃষ্টির কারণে এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা কল পেয়েছি, আমাদের টিম সেখানে যাচ্ছে এবং সেখানকার সমস্যা সমাধানের কাজ করছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিক অতিভারী বৃষ্টির পাশাপাশি খাল ও ড্রেন সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসির কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
