পুরনো সমস্যা ডেকে আনছে নতুন ‘বিপদ’
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের বায়ুর মান কেমন কিংবা এর দূষণের প্রভাব কতটা, তা কারো অজানা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায় বিভিন্ন সময় বায়ুদূষণের ক্ষতিকর দিকের তথ্য উঠে এসেছে। তবে নিত্যনতুন গবেষণায় উঠে আসছে আরো নতুন নতুন সব তথ্য। তবে এসব তথ্য স্পষ্টই ইঙ্গিত দেয়, বায়ুদূষণের মতো দীর্ঘদিনের এই সমস্যা ডেকে আনছে নতুন বিপদ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ঢাকা ছিল বিশ্বের মধ্যে বায়ুদূষণে দ্বিতীয় এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তৃতীয়। ২০২৫ সালে আগের দুই বছরের চেয়ে দূষণ কিছুটা কম থাকলেও বাতাসে পিএম ২.৫-এর বার্ষিক গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৮ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ মানের ১৩ গুণের বেশি।
২০২১ সালে বিশ্বব্যাংক থেকে করা দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণ নিয়ে করা গবেষণার তথ্য বলছে, বিশ্বের বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস বা হটস্পট হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। আর এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ ঘটছে বাংলাদেশে। ওই গবেষণায় বায়ুদূষণ নিয়ে নতুন এক বিপদের কথা বলা হয়। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস বেড়ে যেতে দেখা গেছে। জনসংখ্যা ও যানবাহন চলাচল বেশি এবং বেশি সংখ্যায় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে- এমন এলাকাগুলোতে এ গ্যাস বাড়ছে। ফলে নগরবাসীর জন্য তা দীর্ঘমেয়াদি বিপদ বাড়াচ্ছে, তৈরি করছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বাতাসে এসব ক্ষতিকর উপাদান কমাতে না পারলে এ শহরের বেশিরভাগ মানুষ পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়বে। ঢাকা বসবাসের আরো অযোগ্য হয়ে যাবে।
সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণে দেশে দৈনিক ২৪২ জনের প্রাণহানি ঘটছে। আর বছরে ক্ষতি হচ্ছে ২৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট। স¤প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিতও হয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল- এই ৬টি প্রধান শহরের পিএম-২.৫ বা সূ² বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফল বলছে, শুধু এই ৬টি শহরেই বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে পিএম-২.৫ দূষণের কারণে। অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন এবং দৈনিক গড়ে প্রায় ২৪২ জন প্রাণ হারাচ্ছেন বায়ুদূষণের প্রভাবে। গবেষকদের হিসাবে, বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান। স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন হৃদরোগে- প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর। তবে গবেষণাটি আশার কথাও বলছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুর গুণগত মান নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য তারা পিএম-২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনসহ বিভিন্ন দূষণ উৎস নিয়ন্ত্রণ, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
২০১৬ সাল থেকে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। ক্যাপসের পরিচালক অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, বায়ুদূষণের জন্য দায়ী ইটভাটা ও কলকারখানার ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির দৌরাত্ম্য, যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো, নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ- দূষণের এসব উৎস বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এসব বন্ধে প্রকল্পের দরকার নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্রিয় তৎপরতাই যথেষ্ট; কিন্তু সেই তৎপরতা দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেই।
ঢাকাসহ বড় বড় শহরে সবুজ হারিয়ে যাওয়া বায়ুদূষণ বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি জানান, বন বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের ‘আরবান ট্রি ইনভেনটরি অব ঢাকা সিটি’ জরিপে দেখা গেছে, পুরো ঢাকায় ছোটবড় মিলিয়ে গাছ রয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। এসব গাছ বছরে প্রায় ৫৩৮ দশমিক ৫ মেট্রিক টন দূষক অপসারণ এবং ৫৩ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদন করে। পরিবেশবিদদের হিসাবে জনসংখ্যার বিচারে রাজধানীতে প্রয়োজন সাড়ে ১০ কোটির বেশি গাছ। গাছ না থাকায় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও দূষক অপসারণের স্বাভাবিক ক্ষমতাও হারিয়েছে মেগাসিটি ঢাকা।
এদিকে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ,
রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
জানা যায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বায়ুদূষণ একটি মানুষকে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক- সব দিক থেকেই শেষ করে দিতে পারে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর ‘মারাত্মক চাপ’ ফেলছে। বায়ুদূষণের ফলে সংক্রামক-অসংক্রামক দুই ধরনের রোগই বাড়ছে। এর প্রথম প্রভাব শুরু হয় শ্বাসতন্ত্রের রোগ দিয়ে। হাঁচি, কাশি, সর্দি, শ্বাসের টান বা হাঁপানি, অ্যালার্জিক কফ, অ্যালার্জিক অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, য²া, ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগগুলো হয়। অন্যদিকে বায়ুতে ভাসমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম-২.৫) শ্বাসতন্ত্র দিয়ে রক্তস্রোতে মিশে গিয়ে লিভার, কিডনিসহ বিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। ফলে কিডনি বিকল, লিভার বিকলসহ নানা জাতীয় ক্যান্সার বাড়ছে। অন্যদিকে কমে যাচ্ছে সন্তান জন্মদান ক্ষমতা। অনেক দম্পতি একটি সন্তানের জন্য হাহাকার করছে। এর পেছনে বায়ুদূষণও অন্যতম একটি কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে শুধু বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু ৭ বছর কমে যাচ্ছে। প্রতি বছর ৭৮ থেকে ৮৮ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, স্মৃতিশক্তি লোপ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ব্যক্তিত্বের অবনমনসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য দায়ী বায়ুদূষণ। গড় আয়ু বাড়লেও জীবনের বড় একটা সময় হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে পার করতে হচ্ছে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ডা. লেলিন চৌধুরী। পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, শুধু মানুষ নয়, দূষিত বায়ু সমস্ত জীবনচক্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বায়ুদূষণে ধুলায় গাছের ওপর একটা আস্তরণ ফেলে, ফলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়। এতে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্রাণীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। দূষিত বায়ু পানিতে মিশে জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে। আমরা যেভাবে যাচ্ছি, সেভাবে চলতে থাকলে ক্রমাগত একটি অসুস্থ জাতিতে পরিণত হব।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার পরিকল্পিত প্রয়োগের তাগিদ
এদিকে গতকাল রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ : জলবায়ুর জন্য পদক্ষেপ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বায়ুদূষণ বেড়েছে। বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, ইটভাটা, শিল্প-কারখানা, মোটরযান ও নির্মাণকাজ থেকে নির্গত ধূলিকণা বা ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষ দেশের তালিকায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দেশের পরিবেশ রক্ষায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার পরিকল্পিত প্রয়োগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মো. আক্তার মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক, সিএলপিএ এর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক একেএম মাকসুদ ও সিএলপিয়ের অ্যাডভাইজার অধ্যাপক আ স ম সরোয়ার। ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাইমা আক্তার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, সারাদেশে গৃহস্থালী বর্জ্য, পলিথিন বিভিন্ন ময়লার ভাগাড়ে পুড়িয়ে বায়ুদূষণ প্রকট করা হচ্ছে। ভাসমান মানুষ যারা ঢাকায় আশ্রয় নেয়, তারা বর্জ্য ব্যবস্থায় বেশি কাজ করেন। ফলে তাদের স্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া ইলেক্ট্রিক বর্জ্যও পরিবেশ দূষণের কারণ। অনেকে এই বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বললেও সেটাতেও বায়ুদূষণ বেড়েছে। ফলে সব ধরনের বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। দেশে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ু ও পরিবেশ দূষণ।
তারা আরো বলেন, বায়ুদূষণের কারণে সারাবিশ্বে ২৮৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বায়ুদূষণে ব্যয় হচ্ছে। যারা বায়ুদূষণ কমাতে কাজ করছে বা যে সব পণ্য বায়ুদূষণ কমাতে ব্যবহার হয়, সেগুলো আমদানিতে কর হার কমানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে বায়ুদূষণের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি।
