×

প্রথম পাতা

ইংল্যান্ডের জয়, এমবাপ্পের রেকর্ড

Icon

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইংল্যান্ডের জয়, এমবাপ্পের রেকর্ড

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই ‘সান্ত¡নার লড়াই’ বলে থাকেন। শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এই ম্যাচে অনেক দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে না। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সেই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, গোলের পর গোল, প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর একের পর এক রেকর্ড- সব মিলিয়ে মায়ামির রাতটি হয়ে উঠল বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের মহারণে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংলিশদের সেরা বিশ্বকাপ সমাপ্তি।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের হতাশা ঝেড়ে টমাস টুখেলের দল শুরু থেকেই খেলেছে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। কয়েকজন নিয়মিত তারকাকে বিশ্রাম দিয়েও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি ইংল্যান্ড কোচ। মাঝমাঠে ডেক্লান রাইসের নিয়ন্ত্রণ, দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ এবং ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায় তারা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস। এরপর ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে অসাধারণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। দুই গোলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ইংল্যান্ড শুধু জয়ের জন্যই খেলছে।

এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার রাত। ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে প্রথম গোল করেন আর্সেনাল উইঙ্গার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এবেরেচি এজের বাড়ানো বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরতির আগেই চার গোল হজম করার এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি ফ্রান্সের। ইংল্যান্ডের দ্রুত ট্রানজিশন, নিখুঁত ফিনিশিং ও আক্রমণের ধার সামলাতে প্রথম ৪৫ মিনিটে একেবারেই অসহায় দেখিয়েছে ফরাসিদের।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম একসঙ্গে কয়েকটি পরিবর্তন এনে নতুন উদ্যমে দলকে মাঠে নামান। তার ফলও মেলে দ্রুত। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৬ মিনিট পর এমবাপ্পের দারুণ অ্যাসিস্টে ব্যবধান আরো কমান ব্র্যাডলি বারকোলা। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে ফ্রান্স, আর ইংল্যান্ডের চার গোলের লিডও তখন আর নিরাপদ মনে হচ্ছিল না।

৬৬ মিনিটে আবারো জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। ওলিসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় করা এই গোল শুধু স্কোরলাইন ৪-৩ করেনি, লিখেছে নতুন ইতিহাসও। বিশ্বকাপে এটি ছিল এমবাপ্পের ২২তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে যান লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড। একইসঙ্গে চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। ফলে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক। অন্যদিকে ওলিসে নিজের সপ্তম অ্যাসিস্ট করে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের নতুন কীর্তিও গড়েন।

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, তখন আবারো সামনে আসেন সাকা। ৮৭ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নির্ভুল শটে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা মাত্র দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান এই তরুণ উইঙ্গার। পুরো ম্যাচে তার গতি, ফিনিশিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাই ইংল্যান্ডের জয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে।

যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলে আরেকটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ হাসি ছিল ইংল্যান্ডের। ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে একক নৈপুণ্যে দারুণ গোল করে ম্যাচে শেষ পেরেক ঠুকে দেন জুড বেলিংহাম। তাতেই ৬-৪ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচটি ছিল দুই দলের সমান আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতিচ্ছবি। উভয় দলই ১৯টি করে শট নেয়। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেয়, আর দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাও ম্যাচটিকে এনে দেয় অন্য মাত্রা। হারলেও এমবাপ্পে ও ওলিসের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে কেন ফ্রান্স এখনো বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগের দল।

এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারের হতাশাও ঘুচিয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের শেষটা জয়ে রাঙাতে পারেনি ফ্রান্স। তবু এমবাপ্পের রেকর্ড, ওলিসের সৃজনশীলতা এবং দ্বিতীয়ার্ধের লড়াকু মানসিকতা তাদের জন্য কিছু ইতিবাচক স্মৃতিও রেখে গেল।

শিরোপা না থাকলেও এই ম্যাচে ছিল বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য- নির্ভার আক্রমণাত্মক ফুটবল, তরুণদের দাপট, রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং একের পর এক রেকর্ড। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ করল তৃতীয় হওয়ার স্বস্তি নিয়ে, আর এমবাপ্পে ব্যক্তিগত অর্জনে নিজেকে নিয়ে গেলেন নতুন এক উচ্চতায়। তাই ১০ গোলের এই মহারণ শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপভোগ্য, দর্শকনন্দিত ও স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি হিসেবেই দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা

শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না

সারোয়ার তুষার শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না

নিবন্ধন পেল বাংলাপোস্ট

নিবন্ধন পেল বাংলাপোস্ট

গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

সারজিস আলম গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App