ব্যয় বেড়ে ৩ গুণ
নির্বাচনের বছরে বিএনপির আয় বেড়েছে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভোটের বছরে বিএনপির আয় গতবারের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যয় বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রবিবার ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক বিবরণী জমা দেয়। এবারের উদ্বৃত্ত নিয়ে বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে আগের স্থিতিসহ জমা রয়েছে ২৮ কোটি টাকার বেশি।
রিজভী যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এবারের উদ্বৃত্ত নিয়ে বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে আগের স্থিতিসহ জমা রয়েছে ২৮ কোটি টাকার বেশি।
এর আগে ২০২৪ সালে বিএনপি আয় দেখিয়েছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসন জিতে সরকার গঠন করে বিএনপি।
সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাক্সক্ষীদের দেয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো।
অন্যদিকে দলের সারাবছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতা-কর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখিয়েছে বিএনপি। ইসিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলে রিজভী ছাড়াও দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন ছিলেন।
ইসি সচিবের কাছে অডিট রিপোর্ট দিয়ে রিজভী বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই’ তাদের হিসাব জমা দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া উচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের পরিচালনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয় কী হয়েছে, তা জনগণকে জানানো উচিত।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। পর পর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
