বায়ুদূষণ
অস্বাস্থ্যকর রাজধানীর বাতাস
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। দূষিত শহরের তালিকায় গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার অবস্থান ছিল ৭ম। আর বায়ুমান স্কোর ছিল ১২৮।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকার বায়ুমান এমনটাই ছিল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউ এয়ারে এমনটাই জানানো হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে ছিল উগান্ডার কাম্পালা শহর। বায়ুমান সূচকে শহরটির স্কোর ছিল ২৬৬। একই সময়ে স্কোর ১৭১ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। দূষণের দিক থেকে তালিকায় ৩য় অবস্থানে থাকা বাহরাইনের মানামা শহরের স্কোর ছিল ১৬৫। ৪র্থ অবস্থানে ছিল ভিয়েতনামের হ্যানয়, এর বায়ুমান স্কোর ছিল ১৫১। পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরে বায়ুমান স্কোর ১৩৪ আর ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইজিপ্টের কায়রো শহরের স্কোর ছিল ১৩২।
এদিকে সকাল ১০টা ২৩ মিনিটের দিকে বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। আইকিউএয়ার সূচকে ওই সময় বায়ুদূষণের তালিকায় ১২৪টি দেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৫ নম্বরে। আর স্কোর ছিল ১০২। অবস্থান ও স্কোর হেরফের হলেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকরই ছিল।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো একটি এলাকা বা শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান অনেক ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
