হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি আটশ, ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৮
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে চলতি বছরের ৪ মাসের কিছু বেশি সময়ে হাম ও এই রোগের উপসর্গে প্রায় ৮শ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
ওই বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৪ জনের আর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ জন।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, হাম উপসর্গে যে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে সিলেটে ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন রয়েছে। এর আগে গত ২৬ জুন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ছিল ৭০২। মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ৭৯৭-এ পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮ শিশু। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ১৩০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭০২ জন শিশুর এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৫ জন। হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৯৭ জন। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০৮ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৪৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৮ হাজার ৪১১ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী একজন নারী। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন এবং রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ১২৫ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১ হাজার ৩২ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত চলতি জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৯১ জন এবং এ মাসেই ২০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে : প্রতিমন্ত্রী
প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লিউন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হতে হবে। তিনি বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর। তাই এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।
