হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি ৮শ ছাড়াল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশে চলতি বছরে ৪ মাসের কিছু বেশি সময়ে হাম ও এই রোগের উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা ৮শ’ ছাড়িয়েছে। দেশে চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিছুদিনের মধ্যে রোগী দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সংক্রমণের তথ্য দিচ্ছে। সেই তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দেশে হামের সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন। ১৪ হাজার ৮৪১ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭০৮ জনের। এ ছাড়া ৯৫টি শিশু মারা গেছে, যাদের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মারা গেছে ৮০৩ শিশু।
গতকাল বুধবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও (সিডিসি) বিশ্বে হাম সংক্রমণের পরিস্থিতি জানাতে জুলাই মাসে তৈরি করা ডব্লিউএইচওর নজরদারি প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ডব্লিউএইচও এই ৬ মাসে বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম কিংবা এর উপসর্গের রোগী পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সবচেয়ে বড় হাম সংকট এখন দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছয় মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ডব্লিউএইচওর জুলাই মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে এবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। শুধু সংক্রমণের দিক থেকে নয়, বাংলাদেশে হামে মৃত্যুও বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯০৪ জন এবং নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৩৩ জন, ৮৩৪ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮৩ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন। নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৪১ জন। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯ হাজার ২৯৪ জন।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, রংপুর বিভাগে ৩৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১১ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৪৯৫ জন। আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
