×

প্রথম পাতা

দেশে আবার চোখ রাঙাচ্ছে প্রাণঘাতী কোভিড ভাইরাস

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে আবার চোখ রাঙাচ্ছে প্রাণঘাতী কোভিড ভাইরাস

হামের সংক্রমণ আর ডেঙ্গুর বাড়তে থাকা বিস্তারের মধ্যে চাপা পড়ে কোভিড-১৯ ভাইরাসের আলোচনা। কয়েক দিন আগেও দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত হবার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি পাবনায় নতুন করে আরো ৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। যা জানান দেয়, প্রাণঘাতী ভাইরাসটির থাবা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ জন নার্স, একজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের এক কর্মীর মেয়েরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আরো ১ জন ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা, তার বয়স ৩৩ বছর। যা ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীকে। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ কলকাতাতেও কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে বলে মনে করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, কলকাতায় আবারো কোভিড-১৯ সংক্রমণে পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস ও রাইনোভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ছে। ফলে কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, সর্দি ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

তবে কলকাতার চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তার ধরন অনেকটাই ওমিক্রন ঢেউয়ের মতো। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, অধিকাংশ রোগীর সংক্রমণই মৃদু। এক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মামুন আব্দুল্লাহ জানান, গত ১০ মে উপজেলার ৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর আগে ৯ মে হাসপাতালের এক ইপিআই টেকনিশিয়ানের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এরপর হাসপাতালের অন্য কর্মীদেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে যাতায়াত সীমিত করতে লকডাউন কার্যকর করেছে উপজেলা প্রশাসন। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোয়ারেন্টিনে থাকা বাড়িগুলোতে প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হবার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে থেকে জানা যায়, গতকাল রবিবার ৪টি নমুনা পরীক্ষায় কোনোটিতেই সংক্রমণ ধরা পড়েনি। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৭৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৪১টিতে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৫ জন। অনান্য বয়সে ব্যক্তিদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১ জন, ২ জন করে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৫ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণ এক ব্যক্তি, ১৩ জুন রাজধানী ঢাকায় ১ জন এবং চট্টগ্রামে ১ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই ৩ নজনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জারি করা হয়েছে ১১ টি নির্দেশনা। ওই বছর নমুনা পরীক্ষায় পাওয়া যায় আক্রান্তরা কোভিড-১৯ এর দুটো সাব-ভ্যারিয়েন্ট (উপ-ধরন) এক্সএফজি এবং এক্সএফসি, যেগুলো ওমিক্রন জেএন. ১-এর একটি উপ-শাখা দিয়ে সংক্রমিত। যার সংক্রমণ ক্ষমতা ছিল বেশি।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলছেন, করোনার নতুন নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে যারা বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল কিংবা আগে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি। কেননা তাদের জন্য এই ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ মনে করেন, এই অবস্থায় শঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, সাঁথিয়া উপজেলায় রোগী শনাক্তের বিষয়টি ধরে অনুরূপ যদি কোথাও সংক্রমণ হয় বা হঠাৎ করে একসঙ্গে কয়েকজন আক্রান্ত হয় এবং তাদের লক্ষণগুলো কোভিডের মতো থাকলে তাদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখন যে কাজটিতে গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো-অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে যেন শনাক্ত করণের ব্যবস্থা থাকে সেরকম প্রস্তুতি রাখা। সন্দেহজন উপসর্গ দেখা গেলে যাতে করে ওই বিভাগের মানুষ বিভাগীয় হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারে। তাহলে যা হবে, সংক্রমণ যদি বাড়তে থাকে তাহলে তা আমরা আগে ভাগেই জানতে পারব। তখন ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট কোনটি এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের তথ্য উপাত্তের দিকেও নজর রাখতে হবে। দেখতে হবে, অনান্য দেশে সংক্রমণ কতটা হচ্ছে অর্থাৎ বেশি হচ্ছে কি না, হলে কোন ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে হচ্ছে, সেই ভ্যারিয়েন্ট কতটা মারাত্মক, সেখানে মৃত্যু কেমন। এই তথ্যগুলো জানা থাকলে আমাদের অপ্রস্তুত হতে হবে না। যখনই আমরা কোনো রোগ দিয়ে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি তখন মৃত্যু বেড়ে যায়। নানা সমস্যা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পারি না। সরকার এখন একটি সতর্কীকরণ জারি করতে পারে। কোভিডের লক্ষণগুলো কী কী তা লিখে যেন উপসর্গ থাকলে কোভিড পরীক্ষা করাতে আসে এবং সেখানে যেন পরীক্ষার প্রস্তুতি থাকে। এ ছাড়া জেনোমসিকোয়েন্সিং করে কোনো ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ হচ্ছে এগুলো জানার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিডের উপসর্গ মৃদু হলেও সতর্কতা জরুরি। কারণ, এই ভাইরাসের উপধরনগুলোও বেশ সংক্রামক। অনেকে মৃদু উপসর্গ দেখা দিলে কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে পাত্তা দিতে চান না। কিন্তু সংক্রমণের সময়সীমার মধ্যে যদি আক্রান্ত ব্যক্তিটি এমন কারো সংস্পর্শে আসেন, যিনি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, তার জন্য কিন্তু তা মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার বা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, আগে থেকেই হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীরা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন।

কোভিডের উপসর্গ/লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- জ্বর, সর্দি, নাক বন্ধ, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব বা বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, ঘ্রাণ বা স্বাদের অনুভূতির পরিবর্তন।

আর করণীয় সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলছেন, উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলে সচেতন হতে হবে। যতটা সম্ভব ঘরে থাকা এবং ঘরে বাইরে মানসম্মত মাস্ক পরতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পর পরীক্ষার ফলাফল ‘পজিটিভ’ না হলেই যে উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিটি করোনায় সংক্রমিত নন, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ফলাফল ‘পজিটিভ’ আসুক বা ‘নেগেটিভ’, ন্যূনতম ৫ দিন এসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মালদ্বীপের সামরিক প্যারেডে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের সামরিক প্যারেডে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের বাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

অনলাইন বা অফলাইনে প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন

অনলাইন বা অফলাইনে প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App