×

প্রথম পাতা

মাদ্রাসায় শাস্তির নামে নির্যাতন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাদ্রাসায় শাস্তির নামে নির্যাতন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়

বেশ কয়েক দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের নির্যাতনের ভিডিও। সেইসব ভিডিওর কোনটিতে দেখা যায়, ছোট্ট এক শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। কোনটিতে কিল-ঘুষি, কোনটিতে কান ধরে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা, আবার কোনটিতে আছাড় মারা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অশ্রাব্য গালাগালও করা হয়। ভিডিওগুলোর কিছু পরে ভুয়া বা পুরনো বলে প্রমাণিত হলেও, আবার অনেকগুলোর সত্যতা তদন্তে মিলেছে। ফলে একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে- শিক্ষার নামে, শৃঙ্খলার নামে বা ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি। তবে শুধু মারধরেই সীমাবদ্ধ নয়; গুরুতর শারীরিক আঘাত, যৌন নিপীড়নের ঘটনাও রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রশাসনের নাকের ডগায় শাসনের নামে সেখানে শিশুদের ওপর প্রতিনিয়তই শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবগত থাকলেও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ খুব একটা হয় না।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। কিন্তু যেসব ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়ে না, সেগুলোর বড় একটি অংশ কখনোই আলোচনায় আসে না। ফলে ভাইরাল ভিডিওগুলো সমস্যার পুরো চিত্র নয়; বরং বরফখণ্ডের দৃশ্যমান অংশমাত্র।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আলিয়া মাদ্রাসা ছাড়া কওমি, হাফেজি ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত মাদ্রাসার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক সিনিয়র সচিব এসব মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিলেও নেতৃত্বের মতভেদের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও কাছাকাছি

এলাকায় একাধিক মাদ্রাসা গড়ে উঠছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাজার হাজার কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় লাখো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশে প্রাথমিক শিক্ষার প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখন কওমি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। সাধারণত দারিদ্র্য এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহের কারণে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার হার বাড়ছে। বাবা-মা হারা এতিম শিশুদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হচ্ছে কওমি মাদ্রাসা। তা ছাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কওমি মাদ্রাসায় রাখার প্রবণতা বাড়ছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি শিশুদের ৮০ শতাংশই এতিম অথবা অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিক্ষা, খাবারের আশায় এসব শিশুকে মাদ্রাসায় পাঠান অভিভাবকরা। কিন্তু এসব অসহায় শিশু মাদ্রাসায় এসে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধীনে বর্তমানে নিবন্ধিত মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লাখ। এ ছাড়া অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনেও রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মাদ্রাসা। ফলে দেশে কওমি ধারার মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন দেওবন্দি ধারার শিক্ষার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, প্রতিবছর বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

ভাইরাল ভিডিও থেকে বাস্তবের আদালত : গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রশাসন তদন্তে করেছে। ২০২৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশুকে বারবার আঘাত করা হচ্ছে। পরে পুলিশ তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে এবং মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায়ও একই ধরনের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোথাও পড়া না পারার কারণে, কোথাও সামান্য ভুলের জন্য, আবার কোথাও শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও প্রতিটি ঘটনাই গুরুতর। কারণ শিশুদের ওপর সহিংসতার কোনো গ্রহণযোগ্যতা আইন স্বীকার করে না।

তথ্য-উপাত্ত যা বলছে : শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি যে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়, তা বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯ জন কোনো না কোনো ধরনের সহিংস বা কঠোর শাস্তির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। যদিও এই সহিংসতার বড় অংশ পরিবারে ঘটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এর বাইরে নয়। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, শারীরিক শাস্তিকে অনেক ক্ষেত্রে এখনো ‘শিক্ষাদানের অংশ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা পুরোপুরি দূর হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের ওপর সহিংসতা তাদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যা, আত্মবিশ্বাসহীনতা, শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়া এবং পরবর্তী জীবনে সহিংস আচরণের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু নিয়মিত শারীরিক শাস্তির শিকার হয়, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

নির্যাতনের প্রভাব কতটা গভীর? : শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শারীরিক শাস্তির ক্ষত শুধু শরীরে নয়, মনে থেকেও যায়। দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, ভয়, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, পড়াশোনায় অনাগ্রহ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সহিংস আচরণকে স্বাভাবিক বলেও ধরে নিতে শুরু করে।

শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্যাতনের ফলে প্রথমত, শিশুদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ পড়ে। তারা বিষণ্নতা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে। মানসিক বিকাশ বাধা পায়। দীর্ঘ মেয়াদে তারা নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। ব্যক্তিত্বের বিকাশ হয় না। হীনমন্যতায় ভোগে। আবার সে নিজেও বড় হয়ে নিপীড়ক ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শারীরিক শাস্তির কোনো প্রয়োজন নেই। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক শৃঙ্খলা পদ্ধতিকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে শিক্ষার্থীর ভুল শুধরে দেয়া হয় আলোচনা, পরামর্শ ও আচরণগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে; ভয় বা সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের কাছে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে তার চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর নেই। একটি শিশু যদি প্রতিদিন ভয়ের মধ্যে পড়াশোনা করে, তাহলে শিক্ষা তার কাছে জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে ওঠে। এতে তার মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।

আইন কী বলছে?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু আইন, দণ্ডবিধি এবং শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক সব রকমের নির্যাতন বন্ধে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করে আইন ও সালিশকেন্দ্র এবং লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তিকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। বলা হয়, শাস্তি প্রদান শিশুর প্রতি ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক, অপমানকর আচরণ ও মানবাধিকার পরিপন্থি।’ এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া রহিত করে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে স্কুল-কলেজে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমে এলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। কিন্তু বেসরকারি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে অন্যতম স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগতভাবেই প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এই সনদের ১৯তম অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্র, পিতামাতা বা শিশুর দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কোনো শিশুকে কোনো প্রকার আঘাত বা নির্মম আচরণের মুখোমুখি করা যাবে না।

শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আইনের ঘাটতির চেয়ে বাস্তবায়নের ঘাটতিই বেশি। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এমন ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

কেন ঘটছে এই নির্যাতন?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা নিতে কোনো সরকারকেই সে অর্থে কখনোই আগ্রহী বলে মনে হয়নি। শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো অন্যান্য আইনে বিচারযোগ্য হলেও এ ব্যাপারেও রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্বিকার দেখা গেছে। তারা বলছেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারের অর্থায়ন নেই। ঐতিহ্যগতভাবেই এখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই নিয়ন্ত্রণ না থাকার মানে এই নয় যে সরকার সব দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে এসব ঘটনার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো- প্রথমত, অনেক শিক্ষক এখনো মনে করেন কঠোর শাস্তি ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় না। তৃতীয়ত, অভিভাবকদের একাংশও শারীরিক শাস্তিকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করেন, ফলে অভিযোগ কম হয়। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকে এবং নির্যাতনের ঘটনা সহজে প্রকাশ পায় না।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না। অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারবে।

সমাধানের পথ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা ইতিবাচক শৃঙ্খলা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পান। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যেসব মাদ্রাসায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু কওমি, হাফেজি ও কিছু ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের দেশে ফেরাতে ‘সর্বোচ্চ’ চেষ্টা করবে সরকার

বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের দেশে ফেরাতে ‘সর্বোচ্চ’ চেষ্টা করবে সরকার

নতুন পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে বড় স্বস্তি

নতুন পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে বড় স্বস্তি

পরীমণির বায়োপিকে অভিনয় করতে চান দীঘি, নেপথ্যে কী

পরীমণির বায়োপিকে অভিনয় করতে চান দীঘি, নেপথ্যে কী

হজ প্যাকেজে বড় ছাড়

হজ প্যাকেজে বড় ছাড়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App