×

প্রথম পাতা

বাজারে অস্বস্তি কাটছেই না

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে অস্বস্তি কাটছেই না

ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্যের দাম যেন কোনো নিয়মই মানছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে বদলে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, সীমিত আয়ে পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নি¤œবিত্ত ও দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে একের পর এক পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন, এভাবে কি জীবন চলে? রাজধানীর বাজার থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার হাট- সবখানেই ক্রেতাদের একই অভিযোগ, ‘আয় বাড়েনি, কিন্তু বাজারের খরচ প্রতিদিন বাড়ছে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নি¤œআয়ের মানুষের ওপর। কারণ তাদের আয়ের একটি বড় অংশই খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ব্যয় হয়। ফলে এসব পণ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিন শুক্রবারে বাজার পরিস্থিতি যেন সেই তথ্যের প্রমাণ দেয়।

গতকাল শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি শুরু হওয়ার পরই কাঁচামরিচের দাম কমতির দিকে। কিন্তু ডিম, সবজি, ফার্মের মুরগিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখনো বেশি। আর মাছের দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। এক-দুটি পণ্যের দাম কমলেও মোট বাজার খরচে তেমন কোনো প্রভাব পড়ছে না বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা।

শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী সারওয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসার অবস্থা ভালো না। পুঁজি ভেঙে চলতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে তো শাক সবজিই কিনে খেতে পারছি না। ২/৩টা সবজি কিনতেই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংসের দামের কথা আর কী বলব? ডিমের দামও তো বাড়তি। বাজার থেকে স্বস্তি উধাও হয়ে গেছে। কিন্তু সেদিকে সরকারের নজর নেই।

প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা : বাজারে টানা দুই সপ্তাহ ধরে বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। দুই সপ্তাহ আগে পাড়া-মহল্লার দোকানে বাদামি রঙের এক ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০ টাকায়। গতকাল এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। তবে এলাকা ও ডিমের আকার ভেদে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সাদা ডিম মিলছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। আর খোসা ফাঁটা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা ডজন।

কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে : বাজারে দেখা গেছে, কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে। লম্বা বেগুন, যা গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল, এখন মান ও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুনের দাম এখনো কেজিপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা। শসার দামও কিছুটা কমে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা পেঁপে আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের বাজার উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আলুর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে।

বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি ঢাকায় আসছে না। এতে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। সেই বাড়তি দামের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

কমছে মরিচের দাম : রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ৪০০ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম কমেছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

এক বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, ভারত থেকে মরিচ আসতে শুরু করায় সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণেই দাম কমেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে দেশে উৎপাদিত অন্য অনেক পণ্যের সরবরাহ ও পাইকারি দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা : সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মৃগেল, পোয়া মাছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ১২০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৮০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ

ছাড়া রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। এদিকে ইলিশের দামও বেড়েছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২৫০০ টাকা এবং প্রায় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, চাষের মাছের দাম দিন দিন বাড়ার কারণে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বিক্রয়মূল্যের ওপর। এছাড়া কিছু সামুদ্রিক ও দেশি মাছের দাম সবসময়ই চড়া থাকে।

উচ্চদামেই স্থিতিশীল মুরগির দাম

গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি, যদিও দুই সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছিল। বর্তমানে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা মনসুর আলী জানান, বাজারে মুরগির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বাড়তি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

রাজউক চেয়ারম্যান ‘ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

হাওরে মাছের অভয়াশ্রম বাড়ানো হবে, ইজারা প্রথা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী

হাওরে মাছের অভয়াশ্রম বাড়ানো হবে, ইজারা প্রথা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী

নাটোরের ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে কাজ করব: পর্যটনমন্ত্রী

নাটোরের ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে কাজ করব: পর্যটনমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App