×

প্রথম পাতা

পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ

পাসে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড, সবচেয়ে পিছিয়ে মাদ্রাসা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাসে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড,  সবচেয়ে পিছিয়ে মাদ্রাসা

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ থাকলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে ফল প্রকাশ করে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর সর্বনি¤œ পাসের হার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

কোন বোর্ডে পাসের হার কত : ঢাকার পর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা : এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাস

করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবছর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ, অর্থাৎ পাঁচে পাঁচ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। সবচেয়ে কম ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ পাসের হার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে।

এবারো পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা- দুদিক দিয়েই এগিয়ে আছে মেয়েরা। ছাত্রদের পাসের হার যেখানে ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ পাস করেছে। এবার ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। আর ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। আর ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীরা; এ বোর্ডে ২ হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর এক্ষেত্রে বরাবরের মতোই এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড; এ বোর্ডের ৩৩ হাজার ২৫৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ২০০১ সালে এসএসসিতে গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর থেকেই এ অবস্থান ধরে রেখেছেন ঢাকার শিক্ষার্থীরা। গেল বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে ছিল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে সে বছর ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন। আর সবচেয়ে কম পাস করেছিল বরিশাল বোর্ডে, ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে যশোর বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন। আর সবচেয়ে কম পাসের হার ছিল সিলেট বোর্ডে, ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি, শূন্য থাকবে পৌনে আট লাখ আসন

চলতি শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের একাদশ শ্রেণির ভর্তিও ফলাফলের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণিতে আগের মতোই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন হবে। পুরনো পদ্ধতি অর্থাৎ মার্ক বা জিপিএ পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি হবে।

অর্থাৎ আগের মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেয়া এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগে দেয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা হবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। গতকাল মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের সময় তিনি এ তথ্য জানান।

সারাদেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মতো এবারো একাদশ শ্রেণিতে পৌনে ৮ লাখ আসন ফাঁকা থেকে যাবে।

খাতা চ্যালেঞ্জ, আবেদন শুরু আজ থেকে

এসএসসির ফল খারাপ হলে বা প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করা যাবে। এজন্য অনলাইনের মাধ্যমে ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

ঢাকা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবার যঃঃঢ়ং://ৎবংপৎঁঃরহু.বফঁনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে এবং বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করে খাতা পুনর্নিরীক্ষাণের আবেদন করতে হবে শিক্ষার্থীদের। সেখানে তাদের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। আবেদনের সময় স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে পরীক্ষার্থীদের। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ঢাকা বোর্ড জানিয়েছে, ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেয়ার পরে আরো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একইভাবে তা করা যাবে। এক্ষেত্রে নতুনভাবে মোবাইল নম্বর দেয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া ফি পরিশোধের আগেই যদি আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো (যেগুলোর জন্য এখনো ফি প্রদান করা হয়নি) প্রত্যাহার করা যাবে এবং নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দিলে আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেয়া হবে না। হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি শিক্ষা বোর্ডগুলো খাতা পুনর্নিরীক্ষণের কোনো আবেদন নেবে না।

মানবিকে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল, বিজ্ঞানে পাস ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ পাসের হারের বিপরীতে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন পাস করেছে। আর ব্যবসায় শিক্ষায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন পাস করেছে। ৯টি বোর্ডের মধ্যে মানবিকে সর্বোচ্চ পাসের হার রেকর্ড করেছে ঢাকা বোর্ড (৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ), আর সর্বনি¤œ পাসের হার দিনাজপুরে (৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ)।

বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশ পাসের হার যশোর বোর্ড। এর পরেই রয়েছে ঢাকা বোর্ড (৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ)।

প্রসঙ্গত; এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩ সপ্তাহ পর এবার এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন সমীকরণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয় শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন সমীকরণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

দুই বছরেও ধরা পড়েনি পলাতক ৩৪৫ বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ গুলি

শেরপুর কারাগার দুই বছরেও ধরা পড়েনি পলাতক ৩৪৫ বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ গুলি

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধ সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App