জ্বালানি সংকট
সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, বিপাকে চালকরা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সর্বোচ্চ ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছে গাড়ির চালকরা। গ্যাস সংকটে এখনো বন্ধ হয়ে আছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু সিএনজি স্টেশন। আবার কোনো কোনো পাম্পে রয়েছে গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। খোলা থাকা পাম্পগুলোতে গ্যাসের প্রেশার না থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে পারছে না। গ্যাসের জন্য চালকদের দৌড়াঝাঁপ ও ভোগান্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস সংকট এখন এমন প্রকট হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। দিন যত যাচ্ছে রাজধানীতে গ্যাস সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করছে।
বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনের কর্মীরা বলছেন, লাইনে গ্যাসের প্রেশার নেই। প্রেশার না থাকায় আমরাও গাড়িতে গ্যাস দিতে পারছি না। আমরা নিরুপায় হয়ে গ্যাসের প্রেশার বাড়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকি। মূল লাইনেই তীব্র প্রেশার সংকট প্রায় এক মাস ধরে রয়েছে। চালকদের চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তেজগাঁওয়ের আকিজ পাম্পের কর্মী তারেক বলেন, প্রধান লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা গ্যাস দেব কোথা থেকে। অনেক সময় পর পর হঠাৎ হঠাৎ সামান্য প্রেশার এলে আমরা গ্যাস দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু চালকের চাহিদামতো গ্যাস দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রেসার থাকলে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস দেয়া যাচ্ছে।
জামান পাম্পের বিক্রয়কর্মী আরমান ইসলাম জানান, বেশিরভাগ সময়ই স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়। লাইনে গ্যাস পাওয়া গেলেই গ্যাস দেয়া শুরু করি।
সিএনজি চালক আকবর হোসেন বলেন, প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু লাইনে গ্যাস না থাকায় গ্যাস পাচ্ছি না। গ্যাস সংকটের নিরসন না হলে আমার মতো চালকদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যাবে। এখনই জমার টাকা দিতে পারি না। জমার টাকা ওঠানোর জন্য যাত্রীর কাছে বেশি ভাড়া চাইতে হয়। ভাড়া বেশি চাওয়ায় এখন যাত্রীরা অটোতে কম উঠছে। এখনই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়ে গেছে।
পিকআপ চালক সাদেক হোসেন জানান, পাম্পে পাম্পে ঘুরেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। মালামাল নিয়ে দূরের ট্রিপ ধরতে পারছি না। আয় অর্ধেকে নেমে গেছে। বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ। যেগুলো খোলা সেগুলোর সামনে এক থেকে দেড় কিলোমিটার জুড়ে গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন পড়ে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস। ফলে সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার চালক কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
চালকরা অভিযোগ করেন, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রেশার না থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫০০ সিসির প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং সিএনজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না। এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও অনেক সিএনজিতে মাত্র ২০ টাকার গ্যাস ঢুকছে।
সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন, অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় গ্যাসের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়াদৌড়ি করছি। মেরুল বাড্ডায় গ্যাস নাই শুনে হাজিপাড়া পাম্পে এসে দেখি এখানে এক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। বাধ্য হয়ে এই লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।
মালিবাগ, কারওয়ান বাজার এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের পাম্পগুলোতে গ্যাস দেয়ার সময় পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। হাজিপাড়া ও মগবাজার পাম্পে গ্যাস নেয়ার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন। এই লাইনের কারণে পাশের মূল সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিবাগ পাম্পে তুলনামূলক ভিড় কিছুটা কম ছিল। মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশন এবং মধ্য বাড্ডার সিএনজি স্টেশনসহ ওই এলাকার স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের পাম্পগুলোর মধ্যে কেবল খিলক্ষেতের পাম্পটি চালু রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকার আকিজ সিএনজিসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ১০০ টাকার গ্যাস পেলাম। এভাবে আর চলে না।
উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বিঘিœত হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এরইমধ্যে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তা পুরো সক্ষমতায় ফেরানো যায়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়।
