রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
ফখরুল-অলির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুই প্রার্থী হলেন, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ। গতকাল রবিবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করেন।
এদিকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পরে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এছাড়া ইসি সচিব আকতার আহমেদও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নির্বাচন ভবনে প্রতিনিধি দল : আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ সময় প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থকসহ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে যায় জামায়াতের প্রতিনিধি দল; এক ঘণ্টা পর ১২টার দিকে বিএনপির প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয় নির্বাচন ভবনে।
প্রথমে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর এবং পরে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করেন এ এম এম নাসির উদ্দিন। বাছাই শেষে নির্বাচনী কর্তা দুটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র প্রস্তাবক ও সমর্থক হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তারাসহ প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
আরো পড়ুন: মির্জা ফখরুলের আসনে নির্বাচনের ঘোষণা হিরো আলমের
অলি আহমদের মনোনয়নপত্র প্রস্তাবক শফিকুর রহমান এবং সমর্থক আব্দুল্লাহ আল আমিন।
বাছাই শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলের ঢাকা ১৬ আসনের সাংসদ আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্র ছিল, বাছাইয়ে প্রথম মনোনয়নপত্রটি বৈধ হয়েছে। তাই দ্বিতীয়টি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়নি।
পরে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, দুজনের মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে গৃহীত হয়েছে।
৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর : মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। এ মাসের ১৩ তারিখে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।
তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।
জামায়াতের প্রতিনিধি অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর রায় বলেন, সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।
১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।
ইসি সচিব : নির্বাচন ভবনে নিজ কক্ষের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্রের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর আজকে মনোনয়নপত্র পরীক্ষার দিন ছিল। আমরা অলি আহমদের দুইটা মনোনয়নপত্র পেয়েছিলাম, আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটা পেয়েছিলাম। অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সকালে বাছাই করা হয়েছে, বাছাই করে যথার্থতা পাওয়া গেছে। কাজেই সেটাই গৃহীত হয়েছে। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যেটা মনোনয়নপত্র, সেটাও যথার্থ পাওয়া গেছে। এখন দুইটাই মনোনয়নপত্র ভ্যালিড।
তিনি বলেন, আগামী ১৮ তারিখ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন এবং ২০ তারিখ দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন।
হাই কোর্টে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের আগ পর্যন্ত তপশিল স্থগিতের রিট আবেদন হয়েছে- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার আমার নেই।
