ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আদালতেই
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার অনুরোধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নিষ্পত্তি হবে না; বরং ভারতের আইন ও বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের করা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সেটি যাচাই করা হবে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে- যেসব অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কি না।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়টি এরইমধ্যে ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও বলেছেন, দিল্লি তাদের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ না করার সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে দেয়া সাজা, অভিযোগের ধরন এবং সেগুলো ভারতের আইনে কীভাবে বিবেচিত হবে- এসব বিষয় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। দেশটির আইনি কাঠামো অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ এবং প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা হতে পারে। প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে।
আরো পড়ুন: টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজধানীতে গ্রেপ্তার
এদিকে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দিল্লিতে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হওয়ায় ওই মাসেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এখন যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো- শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া হবে না। বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর সেটি ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
