×

প্রথম পাতা

হাম-ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু

আরো ১৬ লাখ হামের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আরো ১৬ লাখ হামের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশু রোগীর স্যালাইন ও অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করছেন নার্স। ছবিটি গতকাল তোলা -ভোরের কাগজ

দেশে হামের প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। টিকার বাইরে রয়ে গেছে অনেক শিশু। কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩ জন হামের উপসর্গে আর বাকি ৩ জন এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৩ জনের মধ্যে ১ জন ঢাকা আর বাকি ২ জন সিলেট বিভাগের। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১ জন শিশু। এরমধ্যে ৫৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২ জন। এই সময়ে ৯০৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৬৭টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮টি শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯টি শিশুর আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬১ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৩৫ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৩, বরিশালে ৪৮, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৮৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২৮৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫৩ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, খুলনা বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৪, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৬, খুলনা বিভাগে ১৩৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬১, রাজশাহী বিভাগে ৪৬, রংপুর বিভাগে ২৪ এবং সিলেট বিভাগে ৩জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৫ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ২৯১ জন। জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে মারা গেছেন ২০ জন। এছাড়া জানুয়ারিতে ২জন, ফেব্রুয়ারিতে ২জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৪৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বুধবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

বুধবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

৪০ ক্যামেরায় এক মাসেও সেই বাঘিনীর খোঁজ মিলেনি

৪০ ক্যামেরায় এক মাসেও সেই বাঘিনীর খোঁজ মিলেনি

প্যারোলে মুক্তির পর স্বামীর জানাজার সিদ্ধান্ত

দীপু মনি প্যারোলে মুক্তির পর স্বামীর জানাজার সিদ্ধান্ত

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App