বাংলাদেশ-ভারত
বাণিজ্য জোরদার করতে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিয়ে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। একইসঙ্গে বেনাপোলসহ দেশের স্থলবন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো দ্রুত ও দক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিআইআইয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে কিছু সমস্যার কথা বৈঠকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং ও খালাসের কার্যক্রম আরো দক্ষ করা গেলে সীমান্তে পণ্য চলাচল দ্রুত হবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কাঁচামাল আমদানির সময় কমবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দুই দেশের বাণিজ্যে।
তিনি বলেন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এখন দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সীমান্তে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো গেলে ব্যবসায়ীরা আরো বেশি বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন।
বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে দুটি বিজনেস-টু-বিজনেস টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। এর একটি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ভারতের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও সহযোগিতা কাজে লাগানোর বিষয়ে কাজ করবে। অন্যটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে বড় ধরনের অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রয়োজন। নতুন রেলপথ, মহাসড়ক, বন্দর, জ্বালানি ও এলএনজি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল বিনিয়োগ দরকার হবে।
ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এসব খাতে আগ্রহ দেখালে এবং সেই বিনিয়োগ বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও লাভজনক হলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গভীর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
