×

প্রথম পাতা

বঙ্গভবনে যাচ্ছেন ফখরুল

Icon

হরলাল রায় সাগর

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গভবনে যাচ্ছেন ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গভবনে পাঁচ বছরের জন্য বাসিন্দা ম্যান্ডেট পেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে বড় ব্যবধানে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি তিনি। ভোটের ব্যবধান ১৬৮টি। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধান হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলে ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।

এদিকে জয়ের পর সংসদে বিপুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে কোলাকুলিও করেন মির্জা ফখরুল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে বঙ্গভবন সাজানো হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য।

বিকাল পাঁচটায় নির্বাচনী কর্তা ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা চলার সময় সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসনে বসে তা দেখছিলেন। এসময় টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গণনা পর্যবেক্ষণ করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন হুইপ। পরে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়েছে। অব্যবহৃত ছিল ছয়টি ব্যালট পেপার। ব্যবহৃত ৩৪৩টি ব্যালটের সবগুলোই বৈধ। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে মির্জা ফখরুল বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি জানান, ভোটগ্রহণের সময় চারটি ব্যালট পেপার ভুল-ত্রæটির কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালার ১০ নম্বর বিধি অনুযায়ী এসব ব্যালট প্রতিস্থাপন করা হয়। এ নির্বাচনের শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি স¤প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। গতকাল বিকালেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিব

আখতার আহমেদ বলেন, সংসদে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এখন শপথ আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কোলাকুলি মির্জা ফখরুলের : ফল ঘোষণার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ কক্ষে নিজ আসনে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে নিজের চেয়ারে বসেছিলেন। তাকে বিজয়ী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাতের ইশারায় সালাম দেন। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে যান ও করমর্দন করেন। এসময় মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের পর সবাইকে সালাম দেন মির্জা ফখরুল।

এরপর মির্জা ফখরুল নিজের চেয়ার থেকে উঠে সামনে যান। সেখানে তার সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কোলাকুলি করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম খান।

এরপর মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। পরে পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

যেভাবে ভোট : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন। মেয়াদের ২১ মাস বাকি থাকতেই তিনি ‘গুরুতর অসুস্থতা’র কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

সাড়ে তিন দশকের মাথায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একানব্বইয়ের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী ছিলেন। ফলে ভোট আয়োজন করতে হয় আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পরেই এটা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিবই বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। কারণ দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।

বর্তমানে সংসদের অধিবেশন না থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডাকার মাধ্যমে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দুপুর ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে তিনি ভোটদানের নিয়ম তুলে ধরেন।

সিইসি জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(১) অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী, প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন দুজন প্রার্থী। এই আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী, বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর মেনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন সিইসি।

আদ্যক্ষর মেনে সিইসি প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী অলি আহমদের (বীরবিক্রম) নাম ঘোষণা করেন। সদস্য না হওয়ায় তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর দ্বিতীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীমের নাম ঘোষণা করা হয়। এসময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে উৎসাহ দেন।

নাম ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা এমপিদের কাছে ব্যালট পেপার নিয়ে যান। ব্যালট পেপারে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যদের নাম ও বিভক্তি নম্বর উল্লেখ আছে। এর নিচে নির্ধারিত ফাঁকা ঘরে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে এমপিরা ব্যালট পেপার গ্রহণ করেন।

ব্যালটে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুসারে মুদ্রিত আছে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) স্বাক্ষর করে ভোট দেন।

ভোটগ্রহণ শুরু হয় বেলা আড়াইটার দিকে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির সরাসরি স¤প্রচারে দেখা গেছে, বিশেষ এই বৈঠকে স্পিকারের জন্য নির্ধারিত আসনটি খালি ছিল। এর সামনের আসনগুলোতে বসে নির্বাচন পরিচালনা করছেন সিইসিসহ অন্য কর্মকর্তারা। স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্য সংসদের ভেতর আলাদা একটি আসন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বসে তিনিসহ ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যালটে স্বাক্ষর করেন।

একই সময় নিজ আসনে বসা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্যালট পেপার নিয়ে যান ইসির কর্মকর্তারা। পাশের আসনে বসে ছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও নিজ আসনে বসে ব্যালটে স্বাক্ষর করেন।

সংসদ সদস্যদের আসনের সামনের ফাঁকা জায়গায় মোট তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পর্যায়ক্রমে সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় ভোটার হিসেবে ব্যালট পেপার জমা দেন। ভোটদান শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এরপর ভোট দিতে ব্যালট বাক্সের কাছে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা পর্যায়ক্রমে ভোট দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম ভোটদানের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিলে হাত চাপড়ে সমর্থন দেন।

ভোটদান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। শফিকুর রহমানের সঙ্গে করমর্দনের সময় দুজনকেই বাক্য বিনিময় ও হাসতে দেখা যায়।

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আর সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেয়ার যোগ্য ছিলেন। তবে ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। এককভাবে ২০৯ আসন এবং শরিক ৩ আসনসহ মোট ২১২ আসনে বিজয়ী বিএনপি- সব মিলে সংসদ সদস্য ২৪৭ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ভোট ছিল ৯০ জন সংসদ সদস্য। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। এদের মধ্যে ৬ জন ভোট দেননি।

রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার : নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইনি ব্যাখ্যা চাইলে বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ মতামত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মতামত) এ এ আউয়াল। তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ ব্যাপারে মতামত দিয়ে বলেছি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করালে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

শপথ নিলেই এমপি-মন্ত্রী পদ শূন্য হবে : গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী থাকবেন না। শপথের পর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমপি ও মন্ত্রীপদ শূন্য হবে। তখন তিনি এমপি বা মন্ত্রী নন। তখন থেকে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি। শূন্য আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। চিফ হুইপ আগেই জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর নির্বাচিত প্রার্থীর শপথ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তৃণমূল থেকে বঙ্গভবনে: বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল উঠে আসেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মামলা-হুলিয়ার মধ্যে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের কাণ্ডারি। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লিউন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। জুলাই আন্দোলনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তিনি ‘মহামান্য’ হয়ে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।

ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা থেকে চার দশক আগে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা। সজ্জন রাজনীতিক হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাম ধারার রাজনীতিতে নাম লেখান অর্থনীতির এই ছাত্র। তিনি ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা ছিলেন আইনজীবী। তিনি দুবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য। বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগ দেন করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে শুরু করে গতকাল বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির আগ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

রাজনীতির এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর পটপরিবর্তন পরবর্তী প্রতিকূলতা।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপিতে যোগ দেয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

‘আমাকে তো নিয়ে যাবেনই’,  দীপু মনির আকুতি

‘আমাকে তো নিয়ে যাবেনই’, দীপু মনির আকুতি

রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ইতিহাস

রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ইতিহাস

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App