মাছ মুরগি ও ডিমে উত্তাপ, কিছু কমেছে সবজির দাম
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কিছুতেই যেন স্বস্তি ফিরছে না রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার বাজারে গেলে যেন পণ্যের দামের উত্তাপে সাধারণ ক্রেতাদের গায়ে ছ্যাঁকা লাগছে। ক্রেতাদের অভিযোগ যেন সরকারের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আর বাড়তি দামে পণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি দামের চাপে ক্রেতাদের পিষ্ট হতে হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে স্বস্তি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্তের মানুষ। তবে আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে সবজির দাম। কয়েক ধরনের সবজির দাম বেশি থাকলেও অধিকাংশ সবজি মিলছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে।
মৌসুম না হওয়ায় বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। এসব সবজি ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা এবং বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া এক ফালি ৪০ টাকা, প্রতি পিস জালি কুমড়া ৭০ কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাল শাক ও শাপলা ফুল প্রতি আটি ২০ টাকা, লাউ শাক, পুঁই শাক ও ডাটা শাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গোপীবাগ বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী কায়সার আহমেদ বলেন, সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। তবে কিছু সবজির দাম এখনো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। অন্য সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর সবজি
বিক্রেতাদের দাবি, বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর মৌসুম না হওয়ায় সরবরাহ কম। তাই এসব সবজির দাম বেশি। অন্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে দাম এমনই থাকবে।
মাছের বাজারে অনেক আগেই স্বস্তি উধাও হয়েছে। যা এখনো ফিরেনি। আকারভেদে তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কৈ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা, আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা।
শান্তিনগর বাজারের একজন ক্রেতা আবু হেনা বলেন, ২২০ টাকার নিচে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি। এ অবস্থায় মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর মাছ বিক্রেতাদের দাবি, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বাজারে প্রতিদিনই মাছের দাম কিছুটা ওঠানামা করছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যাচ্ছে।
একই চিত্র মাংসের বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে আর খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও অস্বস্তি রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
ক্রেতারা বলছেন, কোন সরকারই সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের নানা প্রতিশ্রæতি দেয়া হলেও বাস্তবে এর দেখা মেলে না। কার্যসিদ্ধি হয়ে গেলে প্রতিশ্রæতির কথা সব সরকারই ভুলে যান।
চালের বাজারে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট (মোজাম্মেল) ৮৫ টাকা, মিনিকেট (রশিদ ও ফ্রেশ) ৮০ টাকা, আঠাশ ৬০ টাকা, পাইজাম ৬০ টাকা এবং মোটা চাল (গুটি-স্বর্ণা) ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, মোটা চালের দাম কিছুটা নি¤œমুখী। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তা মিনিকেট (মোজাম্মেল) ৩ হাজার ৬০০ টাকা, মিনিকেট (রশিদ) ৩ হাজার ১০০ টাকা, আঠাশ ২ হাজার ৬০০ টাকা, পাইজাম ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং গুটি-স্বর্ণা ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা লিটার এবং খোলা সয়াবিন ২০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আলু (ধরনভেদে) ২৫ থেকে ৪০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
