হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের প্রাণহানি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। গতকাল শুক্রবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৩ জনের মধ্যে ১ জন ঢাকা অপর ২ জন সিলেট ও খুলনা বিভাগের। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৪০ শিশু। ৮৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৬।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২৮ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮২৯ শিশুর আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৩৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৩, বরিশালে ৪৯, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২০৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৬০ জন। ৫৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি হন ২১ জন। বরিশালে ৮ জন, চট্টগ্রামে ৯৭ জন, খুলনায় ৭৫ জন, ময়মনসিংহে ৩৮ জন, রংপুরে ৬ এবং সিলেট বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হন ৬ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে ৭৭ জনের প্রাণ কেড়েছে। এর মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৪৫ জন নারী। এর মধ্যে চলতি অগাস্ট মাসে মারা গেছে ২৩ জন। এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৮৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
