ঢাকার বাতাস ছিল কিছুটা সহনীয়
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে। তবে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা কমই থাকছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় ১৭তম অবস্থানে ছিল ঢাকা। আর বায়ুর মান সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ৯৬। এই স্কোরের অর্থ হচ্ছে- ঢাকার বাতাসের মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ছিল।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচকের তথ্যে এমনটাই জানা গেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকালে বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে শীর্ষে ছিল কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি। কুয়েত সিটির বায়ুমান সূচকের (একিউআই) স্কোর ছিল ২৮৬। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার কুচিং শহরের স্কোর ছিল ১৯৫। ১৮০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বাহরাইনের রাজধানী মানামার স্কোর ছিল ১৬২। এছাড়া ১৫৭ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরের বায়ুমান সূচকের স্কোর ১২০ থেকে ১৫১-এর মধ্যে রয়েছে।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো একটি এলাকা বা শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান অনেক ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
আবহাওয়া ও বায়ুদূষণ সম্পর্কিত তথ্যে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলাবালি ও ক্ষতিকারক কণা ধুয়ে মুছে যায়, যার কারণে সাময়িকভাবে বায়ুর মানের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তারা বলেন, সাময়িক বৃষ্টিতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হলেও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং লাগামহীন নগরায়ণের ফলে ঢাকার বায়ুদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণের কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
